রমজান মাসের যে সময়ে নিশ্চিত দোয়া কবুল হয়
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
দোয়া কবুলের নিশ্চিত সময়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক মহামূল্যবান মাস। এ মাস শুধু রোজা রাখার সময়ই নয়, বরং আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে হাত তুলে চাওয়ারও শ্রেষ্ঠ সময়। বান্দা যখন আন্তরিক হৃদয়ে তার রবের কাছে কিছু প্রার্থনা করেন, তখন আল্লাহ তাআলা তা শুনেন এবং দান করেন। তাই রমজানকে বলা হয় দোয়া কবুলের মাস। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ মাসে কিছু বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। যে মুমিন এসব সময়কে গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, সে আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও দয়া লাভ করতে পারে।
রমজান মাসে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের জন্য দুটি অতি মূল্যবান সময় রয়েছে। এ সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন না। তাই রোজাদারদের জন্য এই মুহূর্তগুলো হলো দোয়া কবুলের সোনালি সুযোগ।
রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— কোন সময়ের দোয়া মহান আল্লাহ বেশি কবুল করেন? জবাবে তিনি বলেন, রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রম করার পর যে দোয়া করা হয়, তা অধিক গ্রহণযোগ্য। সে হিসেবে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো—
১. ফজরের সময় হওয়ার আগমুহূর্ত
রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পরের সময়টি হলো দোয়া কবুলের এক বিশেষ মুহূর্ত। এ সময় আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ডাক দেন এবং তাদের চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—
‘কে আমাকে ডাকবে, যার ডাকে আমি সাড়া দেব?’
এই মুহূর্তে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ডাকে এবং তাঁর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তাআলা তাকে দান করেন। আবার আল্লাহ বলেন—
‘কে আমার কাছে কিছু চাইবে, যা আমি তাকে দান করব?’
এছাড়াও আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করার ঘোষণা দেন—
‘কে আছে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?’
অতএব ফজরের আগের সময়টি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময় আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে এসে বান্দাদের ডেকে তাদের প্রয়োজন পূরণের আশ্বাস দেন। যারা এ সময় আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাআলা তাদের ডাকে সাড়া দেন এবং তাদের চাহিদা পূরণ করেন।
বিশেষ করে রমজানের শেষ রাতগুলো আরও বেশি গুরুত্ববহ। এ সময় বান্দার কোনো আবেদন আল্লাহ অগ্রাহ্য করেন না। বান্দা যা চায়, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নেন। তাই রমজানের শেষ রাতের গুরুত্ব অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
২. শেষ রাতে সেহরি গ্রহণ
শেষ রাতের দোয়ার পরপরই রোজার জন্য সেহরি গ্রহণ করা জরুরি। কারণ দিনভর রোজা রেখে কুরআন তেলাওয়াত, নামাজ আদায় এবং জীবিকার কাজ করার জন্য শক্তি অর্জনে সেহরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেহরি বরকতময়। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি করা। কারণ এতে বরকত রয়েছে।
আর যারা সেহরি গ্রহণ করেন, ফেরেশতারা তাদের জন্য কল্যাণ ও মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকেন। তাই সেহরি শুধু খাদ্য গ্রহণ নয়, বরং এটি বরকতপূর্ণ একটি সুন্নত আমল। যেহেতু ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীর জন্য দোয়া করেন, তাই যারা সেহরি গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করে তাদের দোয়াও আল্লাহ তাআলা কবুল করতে পারেন।
৩. মাগরিবের আগে ইফতারের সময়
ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তটিও দোয়া কবুলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। তখন রোজাদার ব্যক্তি সারাদিনের ক্লান্তি, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় দুর্বল হয়ে থাকে। এই অবস্থায় আল্লাহর কাছে করা যে কোনো প্রার্থনাই কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ সময় মানুষের হৃদয় নরম ও বিনম্র থাকে। আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসায় হৃদয় ভরে যায়। ফলে সেই মুহূর্তে হৃদয়ের গভীর থেকে করা দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন।
এ সময় রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য প্রচণ্ড ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে। সামনে খাবার থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের আগে সে তা গ্রহণ করে না। আল্লাহর নির্দেশ মানার এই ধৈর্য ও আনুগত্য আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাই ইফতারের আগ মুহূর্তটিও দোয়া কবুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়।
মুমিন মুসলমানের উচিত এই মূল্যবান সময়গুলোকে অবহেলায় নষ্ট না করা। শেষ রাতগুলো তওবা ও ইস্তেগফারে অতিবাহিত করা, সেহরি গ্রহণ করা এবং ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানো।
রমজান মাস মূলত আল্লাহর কাছে ফিরে আসার মাস। এ মাসে কিছু বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হয়। ফজরের আগের শেষ রাত এবং ইফতারের আগ মুহূর্ত— এই দুটি সময় দোয়া কবুলের অনন্য সুযোগ এনে দেয়। তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত এসব মূল্যবান মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা এবং পরকালীন সফলতার জন্য প্রার্থনা করা। এভাবেই রমজানের প্রতিটি দিন ও রাতকে অর্থবহ করে তোলা সম্ভব।

