Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

যেমন ছিল নবীজির কুরবানি

আরাফাত বিন শাহ আলম

আরাফাত বিন শাহ আলম

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

যেমন ছিল নবীজির কুরবানি

ছবি: এআই

প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন আল্লাহ তায়ালার অত্যন্ত প্রিয় বান্দা এবং তার প্রেরিত সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। 

তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি কাজ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তার কুরবানিও ছিল নিখাদ ইখলাস ও তাকওয়ার প্রতিফলন। আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে তাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন— সুতরাং আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন। (সুরা আল-কাউসার: আয়াত, ২)

আরও বলেন—বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। (সুরা আল-আনআম: আয়াত, ১৬২)

কুরবানি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগ করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় প্রায় দশ বছর অবস্থান করেছেন। এই সময়ে তার জীবনে স্বচ্ছলতা ও অভাব—উভয় অবস্থাই এসেছে। তবুও তিনি প্রতি বছর নিয়মিত কুরবানি করেছেন। কারণ, তিনি ছিলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা এবং সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সচেষ্ট ছিলেন।

ইবনু উমর (রা.) বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং প্রতি বছর কুরবানি করেছেন। (সুনানুত তিরমিজি, হাদিস: ১৫০৭)

উম্মতের প্রতি ভালোবাসা

রাসুল (সা.) শুধু নিজের পক্ষ থেকেই কুরবানি করতেন না; বরং তার উম্মতের যেসব মানুষ কুরবানি করতে সক্ষম ছিল না, তাদের পক্ষ থেকেও কুরবানি করতেন। উম্মতের প্রতি তার মমতা ছিল অসীম।

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সুন্দর দুম্বা আনতে বললেন। দুম্বাটির শিং ছিল সুন্দর, আর তার পা, চোখ ও পেট ছিল কালো বর্ণের। তিনি আমাকে বললেন, হে আয়েশা, ছুরিটি নিয়ে এসো। এরপর বললেন, এটি পাথরে ঘষে ধারালো করো।

আমি তাই করলাম। এরপর তিনি দুম্বাটিকে শুইয়ে যবেহ করার সময় বললেন—“বিসমিল্লাহ। হে আল্লাহ! এই কুরবানি মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবার এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন।” অতঃপর তিনি তা কুরবানি করলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৯২)

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন—“ঈদুল আজহার দিন আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ঈদগাহে উপস্থিত ছিলাম। খুতবা শেষে তিনি মিম্বার থেকে নেমে এলেন। তখন একটি বকরি আনা হলো। তিনি নিজ হাতে তা যবেহ করলেন এবং বললেন—আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। এই কুরবানি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের যেসব ব্যক্তি কুরবানি করতে পারেনি, তাদের পক্ষ থেকে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮১০)

কুরবানির গোশত বণ্টন

আল্লাহ তায়ালা বলেন, অতঃপর তোমরা তা থেকে নিজেরাও খাও এবং দুঃস্থ ও অভাবগ্রস্তদেরও খাওয়াও। (সুরা আল-হজ্জ: আয়াত, ২৮)

তাই কুরবানি শুধু পশু জবেহ করার নাম নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির এক মহান শিক্ষা। আমরা যদি রাসুল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী কুরবানি আদায় করি, তাহলে আমাদের ইখলাস ও তাকওয়াই আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে।

আসুন, লোকদেখানো ও লৌকিকতা পরিহার করে রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথে কুরবানি আদায় করি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .