ফরজ গোসল না করে সাংসারিক কাজ করা যাবে কি, শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সহবাসের পর ফরজ গোসল করার আগে নারীরা ঘরের কাজ করতে পারবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় ইসলামে নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গৃহস্থালির কাজ, রান্নাবান্না বা সন্তানকে দুধ পান করানো সেই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।
সম্প্রতি এক অনুসারীর প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ফরজ গোসল বাকি থাকা অবস্থায় পাঁচটি কাজ করা নিষিদ্ধ। এগুলো হলো—নামাজ আদায়, তাওয়াফ করা, মসজিদে অবস্থান, পবিত্র কুরআন স্পর্শ এবং কুরআন তিলাওয়াত।
তিনি বলেন, ‘এই পাঁচটি কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজ নিষিদ্ধ নয়। তাই কোনো নারী যদি সহবাসের পর ফরজ গোসল করার আগে রান্নাবান্না করেন, গৃহস্থালির অন্যান্য কাজ করেন কিংবা সন্তানকে দুধ পান করান, তাহলে তা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ (জায়েজ)।’
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, সমাজে অনেক সময় নারীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা আরোপ করা হয়, অথচ একই বিষয়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় না। অনেকেই ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে ভুল ধারণা প্রচার করেন।
তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন ফরজ গোসল না করা পর্যন্ত কোনো কাজই করা যাবে না। অথচ এটি সঠিক নয়। এমনকি কেউ যদি সাহরি খেয়ে রোজা শুরু করেন এবং পরে গোসল করেন, তাতেও রোজার কোনো সমস্যা হয় না।’
তবে ফরজ গোসল দেরি করার প্রয়োজন হলে আগে ওজু করে নেওয়াকে উত্তম বলে উল্লেখ করেন এই ইসলামি বক্তা।
এ প্রসঙ্গে তিনি সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসের কথা তুলে ধরে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) গোসল ফরজ হওয়ার পর ঘুমানো বা অন্য কাজ করার আগে ওজু করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ওজু না করলে গুনাহ হবে—এমন কথা হাদিসে নেই।
শায়খ আহমাদুল্লাহ হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে নিয়ে বর্ণিত একটি হাদিসও উল্লেখ করেন। সেখানে আবু হুরায়রা (রা.) গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে যেতে সংকোচবোধ করলে মহানবী (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ! মুমিন কখনো নাপাক হয় না।’ এর মাধ্যমে তিনি বোঝান, গোসল ফরজ থাকা মানে ব্যক্তি নিজেই অপবিত্র হয়ে যান—এমন ধারণা সঠিক নয়।
এ ছাড়া হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো কখনো গোসল ফরজ থাকাবস্থায় ওজু করে ঘুমাতেন, আবার কিছু বর্ণনায় ওজু ছাড়াও ঘুমানোর কথা এসেছে।
সবশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘ফরজ গোসল যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করাই উত্তম। তবে গোসলের আগে ওজু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা ভালো। আর কোনো কারণে ওজু না করলেও, নিষিদ্ধ পাঁচটি কাজ ছাড়া অন্য কাজ করার কারণে গুনাহ হবে না।’

