Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

ফার্মের মুরগি ড্রেসিং করলে কি তা খাওয়া হারাম?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ফার্মের মুরগি ড্রেসিং করলে কি তা খাওয়া হারাম?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বর্তমানে বাজারে বিক্রিত অধিকাংশ ফার্মের মুরগি মেশিনের মাধ্যমে ড্রেসিং করা হয়। এ সময় অনেক ক্ষেত্রেই নাড়িভুঁড়ি বের করার আগে মুরগিকে গরম পানিতে ডুবিয়ে পালক ছাড়ানো হয়। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এভাবে ড্রেসিং করা মুরগি কি নাপাক হয়ে যায়? এর গোশত খাওয়া কি হারাম বা নাজায়েজ?

কুরআন ও হাদিসের দিকনির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দান করেছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর শোকর আদায় করো, যদি তোমরা একমাত্র তারই ইবাদত করে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৭২)

হাদিসে পাকে এসেছে—

إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ... وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذِّبْحَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি কাজে উৎকর্ষ (ইহসান) নির্ধারণ করেছেন। অতএব, যখন তোমরা জবাই করবে, তখন উত্তমভাবে জবাই করো।’ (মুসলিম ১৯৫৫)

এই নীতিমালা থেকে বোঝা যায়, খাদ্য প্রস্তুত ও জবাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতা, সতর্কতা এবং উত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করা ইসলামের শিক্ষা।

এখন প্রশ্ন হলো—


ফার্মের মুরগি যদি নাড়িভুঁড়ি বের না করে গরম পানি দিয়ে মেশিনে ড্রেসিং করা হয়, তাহলে কি ওই মুরগি নাপাক হয়ে যায় এবং তা খাওয়া কি হারাম হয়ে যায়?

ফার্মের মুরগি হোক বা দেশি মুরগি— ড্রেসিং করার আগে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা উত্তম। এতে মুরগির ভেতরে থাকা নাপাকি গোশতের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই আগে নাড়িভুঁড়ি বের করে পরে ড্রেসিং করলে মুরগি খাওয়া হারাম হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে যদি নাড়িভুঁড়ি বের না করে ফার্মের মুরগি বা অন্য কোনো মুরগিকে দীর্ঘ সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয় এবং এর ফলে নাড়িভুঁড়ির ময়লা মাংসের ভেতরে প্রবেশ করে, এমনকি সেই ময়লার প্রভাব, রং বা গন্ধ গোশতে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়, তাহলে সেই গোশত নাপাক হয়ে যাবে এবং তা খাওয়া বৈধ থাকবে না।

কিন্তু আমাদের দেশের বাজারে সাধারণত মুরগিকে পালক নরম করার জন্য মাত্র অল্প সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এত স্বল্প সময়ে মুরগির ভেতরের নাপাকির প্রভাব সাধারণত গোশতের মধ্যে পৌঁছে না। ফলে নাড়িভুঁড়ি আগে বের না করেই এভাবে ড্রেসিং করা হলেও সেই মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরূহ বলা যাবে না।

তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে অধিক সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে ড্রেসিংয়ের আগে নাড়িভুঁড়ি বের করে নেওয়াই উত্তম ও নিরাপদ পদ্ধতি।

ইসলামে কোনো বস্তুকে হারাম বা নাপাক বলার জন্য সুস্পষ্ট শরঈ কারণ থাকতে হয়। শুধুমাত্র নাড়িভুঁড়ি বের না করেই অল্প সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে মুরগি ড্রেসিং করা হয়েছে— এ কারণে মুরগির গোশত হারাম হয়ে যায় না। তবে যদি নিশ্চিতভাবে নাপাকি গোশতের ভেতরে প্রবেশ করে এবং তার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, তখন সেই গোশত নাপাক বলে গণ্য হবে।

অতএব, অমূলক সন্দেহে না ভুগে শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতার স্বার্থে ড্রেসিংয়ের আগে নাড়িভুঁড়ি বের করে নেওয়াই সর্বোত্তম ও নিরাপদ পদ্ধতি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম