ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নামাজ মুমিনের জন্য মহান আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এই ইবাদতে অন্তরের একাগ্রতা, বিনয় ও পূর্ণ মনোযোগ বজায় রাখা অপরিহার্য। তবে নামাজের সময় বান্দার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে শয়তান নানা ধরনের প্ররোচনা সৃষ্টি করে, যার একটি সাধারণ রূপ হলো ‘হাই’ আসা। ইসলামে নামাজে ‘হাই’ তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা ও শিষ্টাচার অনুসরণের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
হাই তোলার ব্যাপারে হাদিসের দিকনির্দেশনা
‘হাই’ আসাকে ইসলামে অলসতা ও শয়তানের প্রভাবের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নামাজে কিংবা নামাজের বাইরে ‘হাই’ এলে তা চেপে রাখা মুমিনের দায়িত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন—
التَّثَاؤُبُ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَالَ: هَا، ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ
‘হাই শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। সুতরাং তোমাদের কারও যখন হাই আসে, সে যেন যথাসাধ্য তা রোধ করে। কেননা তোমাদের কেউ যখন (হাই তোলার সময়) ‘হা’ শব্দ করে, তখন শয়তান তাকে নিয়ে হাসে।’ (বুখারি ৬২২৬)
নামাজের মধ্যে ‘হাই’ এলে করণীয়
নামাজের মধ্যে শয়তানের প্ররোচনা বেশি থাকে, তাই এ সময় ‘হাই’ পুরোপুরি রোধ করা বা মুখ ঢেকে রাখা আরও বেশি জরুরি। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ، فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ
‘তোমাদের কারও যখন নামাজরত অবস্থায় হাই আসে, সে যেন যথাসাধ্য তা রোধ করে (চেপে রাখে)। কারণ শয়তান তখন (মুখ দিয়ে ভেতরে) প্রবেশ করে।’ (মুসলিম ২৯৯৫)
নামাজে ‘হাই’ এলে পর্যায়ক্রমিক করণীয় ধাপসমূহ
প্রথমত: মুখ ও ঠোঁট শক্ত করে চেপে ধরে হাই আসা পুরোপুরি থামানোর চেষ্টা করা।
দ্বিতীয়ত: যদি চেপে রাখা সম্ভব না হয়, তবে মুখ পুরোপুরি খোলা না রেখে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নেওয়া (দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে ডান হাতের উল্টো পিঠ বা বাঁ হাত দিয়ে মুখ ঢাকা)।
তৃতীয়ত: হাই তোলার সময় মুখ দিয়ে যেন কোনো ধরণের শব্দ (যেমন ‘হা’ বা ‘আহ’) বের না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা।
নামাজে খুশু-খুজু বা একাগ্রতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। ‘হাই’ এলে তা রোধ করার চেষ্টা করা সুন্নাহ এবং ইবাদতে শয়তানের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর অন্যতম উপায়। তাই প্রতিটি নামাজির উচিত এই ছোট ছোট সুন্নত ও আদবগুলোর প্রতি যত্নবান হয়ে নিজের নামাজকে আরও প্রাণবন্ত ও ত্রুটিমুক্ত করা।

