বিপদ ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষায় নবীজির (সা.) শেখানো ৩ দোয়া
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানবজীবনে নানাবিধ রোগব্যাধি, অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদ এবং আকস্মিক সংকট আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বাস্তবতা। ইসলামে এমন প্রতিটি মুহূর্তে বান্দাকে মহান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দৈনন্দিন জীবনে ক্ষয়ক্ষতি ও অদৃশ্য অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু ফলপ্রসূ মাসনূন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার পাশাপাশি যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
১. আকাশ ও জমিনের যাবতীয় ক্ষতি থেকে সার্বিক সুরক্ষার দোয়া
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো ক্ষতিকর উপাদানই বান্দার ক্ষতিসাধন করতে পারে না। দোয়াটি হলো—
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস-সামায়ি, ওয়াহুয়াস-সামিউল আলিম।’
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।’
দোয়ার ফজিলত
مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ فِي صَبَاحِ كُلِّ يَوْمٍ وَمَسَاءِ كُلِّ لَيْلَةٍ: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ... ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোনো বান্দা প্রতিদিন সকালে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া বলবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ ৫০৮৮, তিরমিজি ৩৩৮৮)
২. সকল দিক ও আকস্মিক দুর্যোগ থেকে নিরাপত্তা লাভের দোয়া
সম্মুখ, পশ্চাৎ কিংবা প্রাকৃতিক যেকোনো বিপর্যয় (যেমন ভূমিধস বা ভূমিকম্প) থেকে নিরাপদ থাকতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এই প্রার্থনাটি করতেন। দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়্যা, ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি, ওয়া আন শিমালি, ওয়া মিন ফাওকি; ওয়া আউজু বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে আমার সম্মুখ ও পশ্চাৎ থেকে, ডান ও বাম দিক থেকে এবং ওপরের দিক থেকে রক্ষা করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের উসিলায় নিচ দিক থেকে আকস্মিক আক্রান্ত হওয়া (ভূমিধস/ভূমিকম্প) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’
দোয়ার গুরুত্ব:
হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন—
لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَعُ هَؤُلَاءِ الدَّعَوَاتِ حِينَ يُمْسِي وَحِينَ يُصْبِحُ...
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়াগুলোর মাধ্যমে প্রার্থনা করা কখনো পরিত্যাগ করতেন না।’ (ইবনে মাজাহ ৩৮৭১, আবু দাউদ ৫০৭৪)
৩. ক্ষতিকর প্রাণী ও সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া
নতুন কোনো স্থানে পদার্পণ করলে কিংবা বিষাক্ত প্রাণী ও ক্ষতিকর সৃষ্টির ভয় থাকলে এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকা যায়। দোয়াটি হলো—
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের উসিলায় তাঁর সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি।’
হাদিসের ফজিলত—
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا ثُمَّ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ، حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ
‘যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এই দোয়াটি পাঠ করবে, সেখান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (মুসলিম ২৭০৮, মুসনাদে আহমাদ ২৭১৭৫)
তাওয়াক্কুল ও বাস্তব সতর্কতার কুরআনিক নির্দেশ
দোয়া পাঠের পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী সতর্কতা অবলম্বন করা ইমানের অংশ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন কর।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৭১)
মহানবী (সা.)-এর শেখানো এই মাসনূন দোয়াগুলো মুমিনের জন্য এক শক্তিশালী আত্মিক ঢালস্বরূপ। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যার জিকিরের অংশ হিসেবে এই দোয়াগুলো অভ্যাসে পরিণত করলে একদিকে যেমন হৃদয়ে গভীর মানসিক প্রশান্তি ও নিরাপত্তা অনুভূত হয়, অন্যদিকে সকল প্রকার দৃশ্য-অদৃশ্য বিপদ থেকে আল্লাহর বিশেষ হেফাজত লাভ করা যায়। অতএব, আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পার্থিব সতর্কতা বজায় রাখাই প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

