Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

নতুন বাবাদের মনের যে দুশ্চিন্তা কেউ দেখে না

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

নতুন বাবাদের মনের যে দুশ্চিন্তা কেউ দেখে না

বাবাদের মানসিক টানাপোড়েন নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

সন্তান জন্মের পর মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও, নতুন বাবাদের মানসিক টানাপোড়েন বা ‘নিউ ড্যাড অ্যাংজাইটি’র বিষয়টি প্রায়ই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন পুরুষ যখন প্রথমবারের মতো বাবা হন, তখন রাতারাতি তার জীবনে এক বিশাল দায়িত্বের পাহাড় চেপে বসে। একদিকে সন্তানের সুরক্ষা আর সুস্বাস্থ্যের দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে পরিবারের অন্নসংস্থানের চাপসব মিলিয়ে অনেক পুরুষই এক ধরনের তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতায় ভোগেন।

এটি সাধারণ দুশ্চিন্তার চেয়ে আলাদা, কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজের আত্মপরিচয় বদলে যাওয়ার ভয় এবং সবকিছু নিখুঁতভাবে করার এক মানসিক চাপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন বাবাদের এই উদ্বেগ অনেক সময় আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। একজন বাবা যদি হঠাৎ করে খুব বেশি খিটখিটে মেজাজের হয়ে যান, কাজে অতিরিক্ত ডুবে থাকেন কিংবা নিজেকে গুটিয়ে নেন, তবে বুঝতে হবে তিনি মানসিক চাপে আছেন।

দুবাই ভিত্তিক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. বিসি লানিয়ান জানান, অনেক বাবা মুখে ‘আমি ঠিক আছি’ বললেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে ঘুমের অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের ধৈর্য কমে যায় এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আর্থিক দুশ্চিন্তা এই উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ। সন্তান আসার পর সংসারের খরচ বেড়ে যায়, ফলে বাবার ওপর ‘প্রোভাইডার’ বা উপার্জনকারী হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের একটি অলিখিত চাপ তৈরি হয়। অনেক বাবা মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে বা সংসারে কোনো ভুল করা মানেই তিনি ব্যর্থ। এই ভয় থেকেই জন্ম নেয় অনিদ্রা, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা। এছাড়া নিজের ব্যক্তিগত সময় বা শখের বিসর্জন অনেক সময় মনে মনে এক ধরনের হতাশা বা ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ সহজ। মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ হলো, শুরু থেকেই নিজেকে একজন ‘নিখুঁত বাবা’ হিসেবে দেখার চেষ্টা না করে বরং প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার মানসিকতা রাখা জরুরি। সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং দুজনে মিলে কাজের পরিকল্পনা করলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়। দিনের মধ্যে অন্তত ১৫-২০ মিনিট নিজের জন্য সময় বের করা, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করা স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটি একটি সাময়িক পর্যায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু সহজ হয়ে যায়এই বিশ্বাস রাখা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।

সূত্র: গালফ্ নিউজ।

 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .