Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

থ্যালাসেমিয়া: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি, প্রতিরোধে যা করবেন

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

থ্যালাসেমিয়া: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি, প্রতিরোধে যা করবেন

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বের থ্যালাসেমিয়া প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে একটি দেশ বাংলাদেশ, এই বংশগত রক্তস্বল্পতার রোগটি ধীরে ধীরে ‘নীরব হুমকি’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে।

‘অরফানেট জার্নাল অব রেয়ার ডিজিজেস’-এ প্রকাশিত বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) এক রিভিউ অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১০.৯ থেকে ১৩.৩ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, অর্থাৎ প্রায় ১.৭ থেকে ২.২ কোটি মানুষ এই জিন বহন করছে। সচেতনতার অভাব ও দুর্বল চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

থ্যালাসেমিয়া কী

থ্যালাসেমিয়া হলো একটি বংশগত রক্তস্বল্পতার রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত বা স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। ফলে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদে রক্তস্বল্পতায় ভোগে এবং বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে অধিকাংশ রোগী Hb E-বিটা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। যদিও জনসংখ্যার প্রতি ১০ জনে ১ জন বাহক, তবুও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত কেন্দ্রের অভাব, নিরাপদ রক্তের সংকট এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা রোগীদের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই রোগীর পরিবারকে নিজে বহন করতে হয়।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, থ্যালাসেমিয়া কোনো সংক্রামক রোগ নয়, বরং জেনেটিকভাবে বাবা-মা থেকে সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। তাই এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব, এবং কিছু দেশ এই পদ্ধতিতে সফলভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

গবেষণায় একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পাঠ্যসূচিতে থ্যালাসেমিয়া অন্তর্ভুক্ত করা, বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানো।

গবেষকদের মতে, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বিনিয়োগ অনেক বেশি কার্যকর। তাই একটি জাতীয় রোগী নিবন্ধন ও উন্নত চিকিৎসা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .