Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

লবস্টারও ব্যথা পায়! জ্যান্ত সেদ্ধ করার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি বিজ্ঞানীদের

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

লবস্টারও ব্যথা পায়! জ্যান্ত সেদ্ধ করার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি বিজ্ঞানীদের

লবস্টার এবং কাঁকড়া ব্যথা অনুভব করে, বিজ্ঞানীদের দাবি। ছবি: সংগৃহীত

ভোজনরসিকদের কাছে লবস্টার বা গলদা চিংড়ি একটি অত্যন্ত লোভনীয় খাবার। তবে লবস্টার রান্নার প্রচলিত পদ্ধতি—অর্থাৎ জ্যান্ত লবস্টারকে ফুটন্ত গরম পানিতে ছেড়ে দেওয়া—দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণিপ্রেমী এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এক নতুন গবেষণায় লবস্টারের ব্যথার অনুভূতি এবং রান্নার মানবিক পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।

লবস্টার কি ব্যথা অনুভব করে?

দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, লবস্টারের স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত সরল, তাই তারা মানুষের মতো ব্যথা অনুভব করতে পারে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, লবস্টার এবং কাঁকড়ার মতো ক্রাস্টেসিয়ান প্রাণীরা কেবল উদ্দীপনায় সাড়া দেয় না, বরং তারা বেশ জটিলভাবেই ব্যথা অনুভব করতে সক্ষম।

ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করা কতটা অমানবিক?

বিশ্বের অনেক দেশে জ্যান্ত লবস্টার সরাসরি ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করা হয়। গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় লবস্টারটি মারা যেতে বেশ কয়েক মিনিট সময় নিতে পারে, যা প্রাণীটির জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক। সুইজারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতিকে অমানবিক ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করেছে।

বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত বিকল্প পদ্ধতি

গবেষণায় লবস্টার রান্নার আগে সেটিকে ‘অচেতন’ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর জন্য কয়েকটি পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয়েছে:

ইলেকট্রিক স্টানিং: বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে লবস্টারকে দ্রুত অচেতন করা, যাতে সে আর ব্যথা অনুভব না করে।

বরফ পানিতে রাখা: রান্নার অন্তত ২০ মিনিট আগে লবস্টারকে বরফ মিশ্রিত অতি শীতল পানিতে রাখলে তার স্নায়ুতন্ত্র নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

দ্রুত মাথা দ্বিখণ্ডিত করা: অভিজ্ঞ শেফদের দ্বারা খুব দ্রুত লবস্টারের স্নায়ুকেন্দ্র বরাবর কেটে ফেলা, যাতে মুহূর্তের মধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।

বিশ্বজুড়ে আইনি পরিবর্তনের হাওয়া

এই গবেষণার প্রেক্ষাপটে অনেক দেশ তাদের প্রাণী কল্যাণ আইন সংশোধন করছে। যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যেই লবস্টার, কাঁকড়া এবং অক্টোপাসকে ‘সংবেদনশীল প্রাণী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রেস্তোরাঁগুলোতে রান্নার সময় নিষ্ঠুরতা কমানোর বাধ্যবাধকতা তৈরি হচ্ছে।

ভোজনরসিকতা যেন নিষ্ঠুরতায় রূপ না নেয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীদের মতে, লবস্টার রান্নার ক্ষেত্রে আরও মানবিক পদ্ধতি অবলম্বন করা কেবল নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি খাদ্যের গুণমান বজায় রাখতেও সহায়তা করতে পারে। কারণ স্ট্রেস বা যন্ত্রণার মধ্যে মারা যাওয়া প্রাণীর মাংসের স্বাদ ও টেক্সচারে পরিবর্তন আসতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .