Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

পেটের মেদ শুধু হৃদরোগ নয়, বাড়াতে পারে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

পেটের মেদ শুধু হৃদরোগ নয়, বাড়াতে পারে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও

ফাইল ছবি

অনেকেই পেটের মেদকে কেবল সৌন্দর্য বা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পেটের অতিরিক্ত মেদ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটের গভীরে লিভার, অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রের চারপাশে জমে থাকা ভিসেরাল ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করে। এর ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মনোযোগের ঘাটতি, জ্ঞানীয় ক্ষমতার অবনতি এমনকি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ইমিউন নেটওয়ার্ক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অন্ত্র শুধু হজমেই নয়, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, বিপাকক্রিয়া ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্ত্রে থাকা উপকারী অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োম শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরের সব চর্বি এক ধরনের নয়। ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাটের তুলনায় ভিসেরাল ফ্যাট অনেক বেশি ক্ষতিকর। কারণ এটি রক্তে প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা রক্তনালি, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

এর ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, চিন্তাশক্তি ধীর হয়ে যাওয়া, নতুন বিষয় শেখায় সমস্যা এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় মধ্যবয়সে অতিরিক্ত কোমরের মাপ থাকা ব্যক্তিদের পরবর্তী জীবনে আলঝেইমারস ও অন্যান্য ধরনের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু মস্তিষ্ক নয়, অতিরিক্ত পেটের মেদ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি ও শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসেরাল ফ্যাট থেকে নিঃসৃত প্রদাহজনিত রাসায়নিক মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান ও বয়স বৃদ্ধির কারণে ভিসেরাল ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি স্বাভাবিক বিএমআই থাকা ব্যক্তিরও পেটে ক্ষতিকর চর্বি জমতে পারে। তাই শুধু ওজন নয়, কোমরের পরিধিও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসূচক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ভিসেরাল ফ্যাট কমাতে কার্যকর। 

তাদের মতে, পেটের মেদকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। সময়মতো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে যেমন হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে, তেমনি বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .