|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভোজনরসিকদের জন্য ‘বৃষ্টির দিন’ হচ্ছে আশীর্বাদস্বরূপ। বৃষ্টির দিনে বাঙালির অন্যতম প্রধান খাবার হচ্ছে খিচুড়ি। সঙ্গে যদি গরুর মাংসের ভুনা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। সেই সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা, ডিম ভাজা, সঙ্গে একটু ইলিশের লেজ ভর্তা। জমে একদম ক্ষীর।
শ্রাবণ ধারায় এই রোদ এই বৃষ্টি, তার মানে আজ হতে পারে বিশেষ ভোজ! আর ঝুম বৃষ্টির দিনে ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ির সঙ্গে একটু আচার, মচমচে বেগুন ভাজা, ডিম ভাজা কিংবা গরুর মাংসের ভুনা যেন বাঙালির জন্য এক অমৃত! আরামদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক এ খাবারটি শুধু পেটই ভরায় না; বরং মনও ভরিয়ে দেয়, মনও ভালো করে দেয়।
খিচুড়ির আকর্ষণ ও ঐতিহ্য বৃষ্টির দিনে খাওয়ার চল বহু পুরোনো। চাল, মুগ ডাল আর সামান্য মসলার মেলবন্ধনে তৈরি এ খাবারটি আবহাওয়ার সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সঙ্গে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ, বাঙালির জীবনের মেঘলা দিনের এক পরম স্বর্গ।— এমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে নানা পোস্টে।
শুধু খিচুড়িই নয়, বর্ষার দিনে এর সঙ্গে আরও অনেক কিছু যোগ হয়ে খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। ঝুম বৃষ্টির দিনে গরম গরম খিচুড়ির সঙ্গে যদি থাকে মচমচে ডিমভাজা আর এক চামচ লোভনীয় তেঁতুল আচার, তাহলে তো ভোজনরসিকদের মন জুড়াতে আর কিছু লাগে না।
তবে এ খাবারগুলো সবার সাধ্যের মধ্যে নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সংসার সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায়। বর্তমানে ইলিশ মাছের দাম বাজারে গেলে বোঝা যায় কতটা চড়া। মধ্যবিত্তদের জন্য এটা যেন আকাশছোঁয়া স্বপ্ন।
বৃষ্টির দিনে ইলিশ মাছ দিয়ে ভুনা খিচুড়ি যেন স্বপ্নের মতোই বিলাসিতা। কিন্তু তাই বলে বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খাওয়া বাদ যেতে পারে না। বহুল প্রচলিত প্রবাদ— 'শখের তোলা আশি টাকা' মিথ্যা হতে পারে না। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির দিনে শখ করে চেখে দেখা যেতে পারে গরু কিংবা মুরগির খিচুড়ি। যাদের বাজেট একটু কম, তাদের জন্য ভালো অপশন হতে পারে ডিম খিচুড়ি। আর সঙ্গে যদি একটু আচার থাকে, তবে তো কথাই নেই। তবে যাই থাক, বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি থাকা চাই।
