দীর্ঘসময় স্ক্রিনে চোখ, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় জেনে নিন কিছু কার্যকর টিপস
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্তমানে অফিস, পড়াশোনা কিংবা বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে দিনের বড় একটি সময় কাটছে স্ক্রিনের সামনে। দীর্ঘক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে অনেকেরই চোখে জ্বালা, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ও চোখে চাপ অনুভবের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা শুধু চোখ নয়, ত্বকের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লু লাইট ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে কালচে দাগ বা পিগমেন্টেশন বাড়াতে পারে। পাশাপাশি কোলাজেনের ওপর প্রভাব পড়ে অকাল বলিরেখার ঝুঁকিও বাড়তে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। মোবাইলের স্ক্রিনে জমে থাকা জীবাণু থেকে ব্রণ বা র্যাশ হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারে ও কম ঘুমের কারণে ত্বক শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে। শেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিনটাইম পুরোপুরি কমানো সম্ভব না হলেও কয়েকটি সহজ অভ্যাসে চোখের ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়।
চোখের বিশ্রামের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ২০-২০-২০ নিয়ম। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তু বা খোলা জায়গার দিকে তাকাতে হবে। এতে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমে।
একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম চোখের পাতা ফেলেন। এতে চোখ দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই সচেতনভাবে কয়েকবার চোখের পাতা ফেলতে হবে। প্রয়োজনে কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রেখেও বিশ্রাম দেওয়া যেতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও চোখের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে পানির ঘাটতি হলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে ‘ড্রাই আই’ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে চোখের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা অশ্রুর ভারসাম্য বজায় থাকে।
এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লু-লাইট প্রোটেকশন চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যাদের চোখ বেশি শুষ্ক থাকে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে লুব্রিকেটিং আই ড্রপও ব্যবহার করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব শুধু চোখেই নয়, ত্বক ও ঘুমের ওপরও পড়তে পারে। তাই কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত চোখের যত্নের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
তবে চোখে তীব্র ব্যথা, দীর্ঘদিন ঝাপসা দেখা বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি থাকলে নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
