ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষায় প্রচণ্ড দাবদাহ ও গরমের দিনে আপনার শরীর সুস্থ রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ঘামের কারণে আপনার শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা হজম ক্ষমতাও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভারি, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে শীতল প্রভাবসম্পন্ন খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাঙালি আহারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খাদ্য হলো— 'ডাল'। তবে সব ডাল বর্ষার দিনে সমানভাবে উপযোগী নয়। কিছু ডাল আপনার শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে, আবার কিছু ডাল আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা দূর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে দামি প্রোটিন কিংবা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় হালকা ও পুষ্টিকর এসব ডাল অন্তর্ভুক্ত করাই সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, গরমে আপনার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সুস্থ থাকতে কোন কোন ডাল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী এবং কোন ডাল থেকে স্বাস্থ্যগুণ মেলে—
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, গরমের দিনে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এবং আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে হালকা ও কম মসলাযুক্ত তৈরি ডালের ভূমিকা অপরিসীম। গরমে সুস্থ থাকতে যে ডালগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত তা জেনে নিন—
১. মুগ ডাল
গরমের দিনে সবচেয়ে উপযোগী ও পুষ্টিকর খাবার হলো— সোনা মুগ বা সবুজ মুগ ডাল। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক পুষ্টিশাস্ত্র— উভয় মতে, মুগ ডাল অত্যন্ত শীতল প্রকৃতির এবং অত্যন্ত সহজপাচ্য খাবার।
উপকারিতা
গরমের দিনে পেটের গোলমাল, গ্যাস কিংবা বদহজম দূর করতে মুগ ডালের জুড়ি নেই। আপনার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। আর মুগ ডালে থাকা পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আপনার শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ওজন ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে। পাতলা করে রান্না করা মুগ ডালের লাউ-ঝিঙে দিয়ে রান্না গরমের দিনে আপনার শরীরকে সতেজ রাখে।
২. মসুর ডাল
বাঙালির ঘরে ঘরে প্রতিদিনের অত্যন্ত পরিচিত ডাল হলো— মসুর ডাল। সহজলভ্য এ ডাল গরমের দিনে হালকা করে রান্না করে খেলে প্রচুর পুষ্টি মেলে।
উপকারিতা
রক্তাল্পতা ও ক্লান্তি দূর করে মসুর ডাল। আর মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফাইবার ও প্রোটিন, যা গরমের ক্লান্তি ও দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কোলেস্টেরল ও হৃদযন্ত্রের যত্ন ভালো রাখে। এতে থাকা ডায়াটারি ফাইবার রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হার্ট সুস্থ রাখে। কারণ ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর মসুর ডাল নিয়মিত খেলে ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে। কাঁচা আম কিংবা সজনে ডাঁটা দিয়ে পাতলা মসুর ডালের টক ডাল গরমের দিনে তৃপ্তি জোগানোর পাশাপাশি আপনার শরীর ঠান্ডা রাখে।
৩. কলাইয়ের ডাল
অনেকে মনে করেন কলাইয়ের ডাল গুরুপাক, কিন্তু আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বিউলির ডাল বা উরদ ডাল প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত শীতল ও বলবর্ধক।
উপকারিতা
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করে কলাইয়ের ডাল। গ্রীষ্মকালে বিউলির ডাল আপনার শরীরকে অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া এনার্জি বৃদ্ধি ও পাচনতন্ত্রের সুরক্ষা করে। কারণ এটি আপনার শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। আর গরমের দুপুরে মৌরি ও আদা বাটা দিয়ে পাতলা করে রান্না করা বিউলির ডাল ও সঙ্গে ঝিঙে পোস্ত বাঙালির পরম প্রিয় ও আরামদায়ক একটি খাবার।
৪. ছোলার ডাল
ছোলার ডাল কিছুটা ভারি হলেও পরিমিত পরিমাণে পাতলা করে রান্না করলে এটি আপনার শরীরকে দারুণ শক্তি জোগায়।
উপকারিতা
ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করে ছোলার ডাল। আর ছোলার ডালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম। ফলে এটি রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। এ ছাড়া পেশি গঠন ও শক্তি সঞ্চয় করে। কারণ এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম হাড় ও পেশি মজবুত রাখে। আর গরমে ডালিম বা লাউ দিয়ে হালকা মসলায় ছোলার ডাল রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
