হিট ওয়েভে কোন খাবারগুলো খাবেন, কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্ষুধা লাগলে শরীরের বিশেষ কিছু প্রক্রিয়া আমাদেরকে খাবারের কথা মনে করিয়ে দেয়। গ্রীষ্মকালে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। হজম প্রক্রিয়ায় শরীরে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি খরচ হয়। এতে শরীর গরম হয় এবং পানির তৃষ্ণা বেশি অনুভূত হয়। তবে অনেকেই ক্ষুধা ও তৃষ্ণাকে গুলিয়ে ফেলেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের হাইপোথ্যালামাস একই সঙ্গে আমাদের ক্ষুধা ও পিপাসাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে আমরা গরমে এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলি।
গরমে হালকা ও পানি জাতীয় খাবারের প্রতি মানুষের চাহিদা বেশি থাকে; যেগুলো হজম করতে খুব একটা শক্তির প্রয়োজন হয় না। এতে ক্ষুধাও কমে যেতে পারে। এজন্য গরমে ভারি খাবার খাওয়ার থেকে এক টুকরো ফল বা শসা খাওয়াটা অনেক উপকারী। কারণ এ ধরনের খাবার আমাদের বেশি প্রশান্তি দেয়।
অনেক সময় বয়স্কদের পানির পিপাসা পেলেও পান করেন না। এটি তাদের ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। যত সময় আমাদের শরীর ঘামতে থাকে ততক্ষণ শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায় এবং আমরা তৃষ্ণার্ত হই। এই পানিশূন্যতা পূরণ করা খুবই কঠিন। তাই আমাদের উচিত পর্যাপ্ত পানি পান করা। এ ক্ষেত্রে কিছু ট্রিকস ফলো করলে ডিহাইড্রেশন এড়ানো যায়। যেমন- বাইরে গেলে সঙ্গে অবশ্যই ঠান্ডা পানি রাখার চেষ্টা করা। পাশাপাশি লেবুর শরবত, কমলার জুস এসব রাখা যেতে পারে। এ গুলো পানি খাওয়ার আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিভিন্ন ধরনের সিজনাল ফল খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। আমরা মনে করি, পানিশুন্যতা শুধুমাত্র পানি পান করার মাধ্যমেই দূর হয়। এই ধারণা ভুল। বিভিন্ন খাবার থেকেও পানিশূন্যতা দূর করা সম্ভব। যেমন- একজন ব্যক্তি ম্যাশ পটেটো দিয়ে স্টেক খেলেন, আরেকজন টমেটো দিয়ে রান্না করা টুনা মাছ ও তরমুজের ডেজার্ট খেলেন। এ ক্ষেত্রে দুজনে পানির প্রয়োজনীয়তা সমান হবে না। দ্বিতীয় ব্যক্তির তুলনায় প্রথম ব্যক্তির পানিশূন্যতা বেশি হবে। কারণ তার খাবারে পানির পরিমাণ কম ছিল।
যেসব খাবারে পানির পরিমাণ বেশি থাকে পুষ্টিবিদরা সেসব খাবার খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি জাতীয় খাবার হলো তরমুজ। তরমুজে প্রায় ৯৬-৯৭% পানি থাকে। এছাড়া আপেল, পেঁপেরে মতো খাবারে প্রায় ৮৫-৯০% পানি থাকে। পানি পান ছাড়াও এ ধরনের সিজনাল খাবার খেলেও পানিশুন্যতা দূর হবে। এছাড়া স্যুপ, সালাদ, টমেটো ও শসার মধ্যেও তরমুজের মতো পানি রয়েছে। গরমে এসব খাবার খুবই স্বাস্থ্যকর।
অনেক সময় আমরা অবসাদগ্রস্ত হই। এর মূল কারণ হতে পারে আমরা বেশি পরিমাণে চিনি গ্রহণ করি। আমরা ভাবি, এটি আমাদের শক্তি দেয়। কিন্তু এটি আমাদের শরীরে অবসাদ এনে দেয় এবং ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সোডিয়াম ও পটাশিয়াম যুক্ত বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক যেমন- কোকোনাট ওয়াটার, আইসোটনিক ওয়াটার স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে।
অনেকেই অ্যালকোহল পান করেন। এটি অনেকের ক্ষেত্রে রিফ্রেশমেন্ট ড্রিংক হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, শুধু রিফ্রেশমেন্ট দিলেই সেটা শরীরকে হাইড্রেট রাখে না। অ্যালকোহল এমন এক পানীয় যা আমাদের শরীরকে ডিহাইড্রেট করে।
পুষ্টিবিদরা আরও বলেন, ব্ল্যাক কফি অনেক ক্ষেত্রে শরীরে জন্য ভালো হলেও এটি আমাদের শরীরকে ডিহাহড্রেট করে ফেলে। অনেকে আইসক্রিম খান; এটিও ডিহাইড্রেশনের কারণ। তাই গরমে এসব না খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
এজন্য আমাদের উচিত বেশি বেশি পানি পান করা। পাশাপাশি পানি সমৃদ্ধ ফল খেলে ও ইলেকট্রোলইট ড্রিংক পান করলে স্বস্তি পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে।

