Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

মোবাইল ফোন ও টাওয়ারের বিকিরণ কি ব্রেন টিউমারের কারণ? যা বলছে বিজ্ঞান

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম

মোবাইল ফোন ও টাওয়ারের বিকিরণ কি ব্রেন টিউমারের কারণ? যা বলছে বিজ্ঞান

ফাইল ছবি

মোবাইল ফোনের টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাস করা কিংবা দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বাড়ে—এমন ধারণা বহুদিন ধরে মানুষের মধ্যে প্রচলিত। মোবাইল ফোনের বিকিরণ ক্যানসারের কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, মোবাইল টাওয়ার বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ভারতের ফরিদাবাদের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ও মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. সানি জৈন বলেন, মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি থাকা কিংবা মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ব্রেন টিউমার হয়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার মতে, এ ধরনের ধারণা অনেক সময় সমাজে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা ‘মিথ’ বা প্রচলিত ভুল ধারণায় পরিণত হয়।

কী ধরনের বিকিরণ ছড়ায় মোবাইল ফোন ও টাওয়ার?

মোবাইল ফোন টাওয়ার মূলত সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এই যোগাযোগের জন্য রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। এটি এক ধরনের বিকিরণ হলেও সব ধরনের বিকিরণ শরীরের ওপর একই ধরনের প্রভাব ফেলে না।

ডা. জৈনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ও টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তি ‘নন-আয়নাইজিং’ বিকিরণের অন্তর্ভুক্ত। এর ডিএনএ ভেঙে দেওয়ার মতো শক্তি নেই।

অন্যদিকে, ‘আয়নাইজিং’ বিকিরণের শক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি। এটি কোষের ভেতরে প্রবেশ করে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের জিনগত পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এক্স-রে ও গামা রশ্মি আয়নাইজিং বিকিরণের উদাহরণ।

ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি?

মোবাইল টাওয়ার বা ফোনের রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গ নিয়ে মানুষের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো বিকিরণ শব্দটি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকিরণের ধরন ও শক্তির মাত্রা বিবেচনা করা জরুরি।

ডা. জৈন জানান, তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীই জানতে চান, মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি থাকার কারণে তাদের ক্যানসার হয়েছে কি না। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ও টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগ রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের মাধ্যমে হয়। তবে এই তরঙ্গ নন-আয়নাইজিং হওয়ায় কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি বহন করে না।

গবেষণা কী বলছে?

রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন পর্যালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বড় গবেষণা, যেমন ‘কসমস’ স্টাডি, মোবাইল ফোন ব্যবহার বা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের কারণগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেনি।

অবশ্য গবেষণা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণের কোনো সম্ভাব্য স্বাস্থ্যপ্রভাব আছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের বিকিরণকে সমানভাবে ক্ষতিকর মনে করাই মোবাইল ফোন নিয়ে আতঙ্কের অন্যতম কারণ। কিন্তু বিকিরণের শক্তি ও জৈবিক প্রভাবের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে তাই মোবাইল টাওয়ারের কাছে বসবাস বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ব্রেন টিউমার হয়—এমন দাবি সমর্থন করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .