দুধ পান করলে কেন অ্যাসিডিটি হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭ এএম
দুধকে সবচেয়ে পুষ্টিকর ও সহজলভ্য পানীয়গুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুধকে সবচেয়ে পুষ্টিকর ও সহজলভ্য পানীয়গুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে দুধ পান করার পর পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, গ্যাস বা বুকজ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকেই মনে করেন, দুধ হয়তো তাদের জন্য উপকারী নয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দুধ পান করার পর অ্যাসিডিটি বা হজমজনিত সমস্যার প্রধান দুটি কারণ হলো ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদনের ওপর দুধের প্রভাব। কারণটি শনাক্ত করতে পারলে দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়েও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
দুধ কীভাবে অ্যাসিডিটির কারণ হয়?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষের শরীরে ল্যাকটেজ নামের এনজাইমের উৎপাদন কমে যায়। এই এনজাইম দুধে থাকা ল্যাকটোজ বা প্রাকৃতিক চিনি ভাঙতে সাহায্য করে। ল্যাকটোজ ঠিকমতো হজম না হলে তা অন্ত্রে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে, যা অনেক সময় অ্যাসিডিটির মতো অনুভূত হয়।
এ ছাড়া দুধে থাকা ফ্যাট ও প্রোটিন পাকস্থলীকে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনে উদ্দীপিত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি লোয়ার ইসোফেজিয়াল স্ফিংটারকে শিথিল করে দিতে পারে। ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে এসে বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের দুধ-জনিত অ্যাসিডিটির সাধারণ কারণ
ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স: ল্যাকটেজ এনজাইমের ঘাটতির কারণে ল্যাকটোজ সঠিকভাবে হজম না হওয়ায় গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
দুধের উচ্চ ফ্যাট: চর্বিযুক্ত দুধ পাকস্থলী খালি হওয়ার গতি কমিয়ে দেয়, যা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দুধের প্রোটিন: কেসিন ও হোয়ে প্রোটিন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা: জিইআরডি বা দুধের প্রোটিনে অ্যালার্জি থাকলে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।
খালি পেটে দুধ পান: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে দুধ পান করলে অস্বস্তি ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বেশি দেখা যায়।
তাই দুধ পান করার পর নিয়মিত অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা দেখা দিলে এর কারণ শনাক্ত করা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

-6a88d534c7085.jpg)