তাপপ্রবাহে বিপদ বাড়াতে পারে বিষণ্নতা ও উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ: গবেষণা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
কিছু প্রচলিত ওষুধ মানুষের জন্য অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রচলিত ওষুধ মানুষের জন্য অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, এডিএইচডি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। ফলে ডিহাইড্রেশনসহ বিভিন্ন গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ—যেমন সেরট্রালিন, ফ্লুওক্সেটিন, এসসিটালোপ্রাম ও ভেনলাফ্যাক্সিন—কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘাম ও শরীরের তাপমাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে বেশি পানি ও লবণ বের হয়ে গেলে তীব্র গরমে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। আবার কিছু পুরোনো ধরনের অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ঘাম কমিয়ে দেয়, যা শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
এ ছাড়া কিছু ওষুধ মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এই অংশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এডিএইচডি চিকিৎসায় ব্যবহৃত উদ্দীপক (স্টিমুল্যান্ট) ওষুধ, যেমন রিটালিন, শরীরে তাপ উৎপাদন বাড়াতে এবং রক্তনালি সংকুচিত করতে পারে। এতে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। একইভাবে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতের বিভিন্ন তাপপ্রবাহের সময় এসব ওষুধ সেবনকারীদের মধ্যে গুরুতর গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল।
শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধই নয়, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডাইইউরেটিক, এসিই ইনহিবিটর এবং অ্যাঞ্জিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকারস (এআরবি) শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ওষুধ তৃষ্ণাবোধও কমিয়ে দেয়, ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে গরমে তাদের আরও বেশি পানি পান করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র ডিহাইড্রেশন কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতার কারণও হতে পারে।
সম্প্রতি ইউরোপের এক তাপপ্রবাহের সময় বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি এলিয়ানা ওকুমেস অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ঘুম থেকে উঠতে সমস্যার কথা জানান। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ভবনের সর্বোচ্চ তলায় বসবাসকারী এই নারী পরে সন্দেহ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সেবন করা বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ওষুধ তার গরমে শারীরিক প্রতিক্রিয়া আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা এমন ওষুধ সেবন করেন, তাদের তাপপ্রবাহের সময় পর্যাপ্ত পানি পান, ঠান্ডা পরিবেশে থাকা এবং শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ নজর রাখা উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

