ডিম নাকি মুরগি— শরীরের ঘাটতি মেটাতে কোনটি সেরা?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীর গঠন ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে ডিম ও মুরগির মাংস— দুটিই অত্যন্ত চমৎকার উৎস। তবে সামগ্রিক পুষ্টি ও জৈব মূল্যের বিচারে ডিম সামান্য এগিয়ে থাকে। ডিমের প্রোটিন শরীরের মাংসপেশি তৈরিতে খুব সহজে মিশে যায়। আর মুরগির মাংসে চর্বি কম ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। সে জন্য সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পেশি বা মাসল তৈরি করা কিংবা দৈনন্দিন শক্তি ধরে রাখা—সব কিছুর জন্যই প্রোটিন আমাদের শরীরের এক অপরিহার্য উপাদান।
কিন্তু যখনই উচ্চমানের প্রোটিনের কথা আসে, তখন পুষ্টির পাতে দুটি নামই সবচেয়ে আগে উঠে আসে— ডিম ও মুরগির মাংস। জিম ট্রেনার থেকে শুরু করে পুষ্টিবিদরা দুটিরই প্রশংসা করেন। তবে প্রশ্ন হলো— প্রোটিনের গুণাগুণ, শোষণ ক্ষমতা এবং সার্বিক উপকারের বিচারে আসলে কোনটি বেশি কার্যকরী বা 'বেটার' উৎস?
এ বিষয়ে পুষ্টি বিশেষজ্ঞের বিচারে ডিম ও মুরগির মাংস— দুটিই নিজ নিজ জায়গায় সেরা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিম হলো— সহজে শোষিত ও পুষ্টিতে ভরপুর 'কমপ্লিট প্রোটিন'। আর মুরগির মাংস হলো— বেশি পরিমাণের 'লিন প্রোটিন'। তাই কোনো একটিকে বাদ না দিয়ে নিজের দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রম, শারীরিক চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় দুটিরই ভারসাম্য রেখে ব্যবহার করাই সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।
ডিম ও মুরগির মাংসের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলনা এবং আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে উপযোগী, তা জেনে নিন—
১. প্রোটিনের গুণমান ও পরিমাণের তুলনা
প্রোটিনের পরিমাণের দিক থেকে মুরগির মাংস অনেকটাই এগিয়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম সেদ্ধ চিকেন ব্রেস্টে প্রায় ৩০-৩১ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যদিকে একটি সাধারণ মাঝারি আকারের সেদ্ধ ডিমে মাত্র ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অর্থাৎ প্রোটিনের ঘনত্বের বিচারে মুরগির মাংস অনেক বেশি কার্যকর।
আবার প্রোটিনের জৈবিক মান কতটা সহজে আমাদের শরীর শুষে নিতে বা হজম করতে পারে, তা মাপা হয় 'বায়োলজিক্যাল ভ্যালু' দিয়ে। বিজ্ঞানের নিয়মে ডিমকে প্রোটিনের 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' বলা হয়। কারণ এর বায়োলজিক্যাল ভ্যালু ১০০ (সম্পূর্ণ শোষণে সক্ষম)। অন্যদিকে মুরগির মাংসের বায়োলজিক্যাল ভ্যালু প্রায় ৭৯। অর্থাৎ ডিমের প্রোটিন শরীর অনেক বেশি দ্রুত ও সহজে শোষণ করতে পারে।
২. অন্যান্য পুষ্টিগুণ ও ক্যালোরির তফাত
ডিমের পুষ্টিগুণ কেবল প্রোটিন নয়, এটি সুষম পুষ্টির পাওয়ার হাউজ। ডিমের কুসুমে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, কোলিন, যা আপনার মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে সেলেনিয়াম ও লুটেইন। কম খরচে এতগুলো প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস অন্য কোনো একক খাবারে পাওয়া কঠিন। তবে ডিমের কুসুমে সামান্য কোলেস্টেরল ও ফ্যাট থাকে।
আর মুরগির মাংসের পুষ্টিগুণ, বিশেষ করে স্কিনলেস চিকেন ব্রেস্ট হলো ফ্যাতমুক্ত লিন প্রোটিনের দুর্দান্ত উৎস। এতে প্রোটিনের মাত্রা বেশি কিন্তু ক্যালোরি ও ফ্যাটের পরিমাণ অনেক কম। এ ছাড়া এতে নিয়াসিন, ভিটামিন বি৬, ফসফরাস ও জিংক থাকে, যা মেটাবলিজম ও পেশির ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. ডিম ও মুরগির মাংস— কোনটি কার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত?
ওজন কমানো ও মাসল বিল্ডিং: যারা জিম করেন কিংবা বডি বিল্ডিং করছেন, তাদের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। অল্প পরিমাণে বেশি প্রোটিন এবং কম ফ্যাট পাওয়ার জন্য তাদের জন্য চিকেন আদর্শ।
সহজ পাচ্য ও দৈনন্দিন বাজেট: যারা কম খরচে ও সহজে রান্নাযোগ্য এবং দ্রুত হজম হয়— এমন প্রোটিনের উৎস খুঁজছেন, তাদের জন্য ডিম সেরা। এটি শিশু থেকে প্রবীণ— সবার জন্যই অত্যন্ত নিরাপদ।
