পরোক্ষ ধূমপানেও বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি, বাঁচতে যা করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজে ধূমপান না করলেও তামাকের ধোঁয়া থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। ধূমপায়ীর পাশে থাকা বা ঘরে-বাইরে অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের কারণে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হতে পারেন যে কেউ। দীর্ঘদিন পরোক্ষ ধূমপানের ফলে ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ফুসফুসের রোগ, হৃদ্রোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরে-বাইরে তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু-কিশোররা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। পরিবারের কোনো সদস্য ঘরের ভেতর বা শিশুদের সামনে ধূমপান করলে তারা নিয়মিত তামাকের বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে শৈশবেই শ্বাসনালির প্রদাহ, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের রোগ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর শিকার হন ৬ লাখের বেশি মানুষ।
হৃদ্যন্ত্রে বড় ক্ষতি
পরোক্ষ ধূমপানের অন্যতম বড় ক্ষতি হয় হৃদ্যন্ত্রে। তামাকের ধোঁয়ার বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করে রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ বা এন্ডোথেলিয়ামের ক্ষতি করতে পারে। এতে প্রদাহ তৈরি হয় এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শুধু ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্র নয়, দীর্ঘদিন তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফুসফুস, কিডনি, লিভার, পাকস্থলী, মুখ ও গলাসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। চোখের ক্ষেত্রেও ছানি ও দৃষ্টিজনিত সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকা প্রজননস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হরমোনের ভারসাম্য ও প্রজননক্ষমতায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
পরোক্ষ ধূমপান থেকে বাঁচবেন যেভাবে
বাড়িতে ধূমপান বন্ধ করুন: ঘরের ভেতর ধূমপান না করার বিষয়ে পরিবারের সবাইকে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের সামনে ধূমপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা জরুরি।
গাড়িতে ধূমপান করবেন না: বন্ধ গাড়ির ভেতর তামাকের ধোঁয়া দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে। তাই গাড়ির ভেতরে ধূমপান না করাই নিরাপদ।
ধূমপায়ীদের কাছ থেকে দূরে থাকুন: কেউ পাশে দাঁড়িয়ে ধূমপান করলে সম্ভব হলে সেখান থেকে সরে যান। ধূমপানের ধোঁয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
শিশুদের ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখুন: যেখানে ধূমপান হচ্ছে, সেখানে শিশুদের অবস্থান করতে দেওয়া উচিত নয়। শুধু জানালা খোলা বা ঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করলেই পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।
পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। নিজের পাশাপাশি পরিবারের শিশু ও অন্য সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঘর, গাড়ি ও কর্মস্থলসহ আশপাশের পরিবেশ ধূমপানমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
