বাংলাদেশসহ ১৯১ দেশের ১০ হাজার অংশগ্রহণ
রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে বিশ্ব তরুণদের মহাসম্মিলন
Advertisement
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণ-তরুণিরা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রথমবারের মত নিজের দেশের বাইরে এসেছেন বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অলিভিয়া। রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরে পা রাখার পর অলিভিয়ার কাছে সবকিছুই যেন নতুন। নতুন শহর, নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি টানছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সমবয়সি তরুণদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।
তার কাছে এটি শুধু একটি উৎসব নয়; বরং নিজের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও স্বপ্নকে বিশ্বের অন্য তরুণদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।
অলিভিয়া যুগান্তরকে বলেন, এই উৎসব আমার কাছে শুধু একটি আয়োজন নয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণদের সঙ্গে দেখা করা, তাদের ভাবনা জানা এবং নিজের স্বপ্ন ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার এটি একটি অসাধারণ সুযোগ।

অলিভিয়ার চোখে ইকাতেরিনবার্গ এখন শুধু রাশিয়ার একটি শহর নয়, যেন বিশ্বের তরুণদের মিলনস্থল। ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূগোলের সীমা পেরিয়ে এখানে একত্র হয়েছেন হাজারো তরুণ। কারও হাতে নতুন প্রকল্পের ভাবনা, কারও চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন, আবার কেউ এসেছেন নতুন বন্ধুত্ব ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরির প্রত্যাশা নিয়ে।
রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয় উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন ও অভ্যর্থনা কার্যক্রম। ১২ সেপ্টেম্বর শনিবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা ইকাতেরিনবার্গে পৌঁছান। বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেটের স্বেচ্ছাসেবকরা। ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে শুরু হয়েছে উৎসবের মূল পর্ব।
আয়োজকরা জানান, ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ১৯১টি দেশের প্রায় ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিসিলিস, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, মিসর, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, বেলারুশসহ ১৯১টি দেশের প্রতিনিধিরা এবারের উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী, শিল্পী, বিজ্ঞানী, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী। ফলে উৎসবস্থল পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের মিলনকেন্দ্রে। আয়োজকরা জানান, উৎসবে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন ৭০ জন যুব প্রতিনিধি ও চারজন গণমাধ্যমকর্মী।

উৎসবকে কেন্দ্র করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার যুববিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রজমলোদেজ’-এর প্রধান গ্রিগরি গুরভ বলেন, সারা বিশ্ব থেকে এমন তরুণদের একত্র করা হয়েছে, যারা নিজেদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন এবং কেমন পৃথিবী গড়ে তুলতে চান, তা নিয়ে কাজ করছেন।
তার ভাষায়, তরুণরা এখানে নতুন প্রকল্প শুরু করছেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি করছেন এবং দল গঠন করছেন। সৃজনশীল মানুষ, বিজ্ঞানী, তরুণ সরকারি কর্মকর্তা, ব্লগার, গণমাধ্যমকর্মী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে ইকাতেরিনবার্গ এই সময়ের জন্য বিশ্বের তরুণদের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালের বাংলাদেশ অংশের ন্যাশনাল প্রিপারেটরি কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক হোসাইন মোহাম্মদ সাগর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুব নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয় এই উৎসবে। তিনি বলেন, একজন তরুণ যে খাতে কাজ করছেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে সেই খাতে কী ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে, তা জানার সুযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নিজের কাজেও কাজে লাগানো সম্ভব।
রোববারের কর্মসূচিতে ছিল ক্রীড়া ও ওয়েলনেস কার্যক্রম, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাবারের উৎসব, তরুণ শিল্পীদের প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিবিষয়ক আলোচনা।
অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আলিনা জাগিতোভার নেতৃত্বে হয়েছে গণস্ট্রেচিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন লোমোনোসভ মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের ডিন ইভান ওসেলেদেতস। আর মহাকাশচারী ওলেগ কোনো নোনেঙ্কোর সঙ্গে তরুণদের সংলাপের বিষয় ছিল ভবিষ্যতের পেশা ও মহাকাশজগতের সম্ভাবনা।

ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক দিমিত্রি ইভানভ যুগান্তরকে বলেন, উৎসবের প্রদর্শনীতে জীবনের সাতটি ক্ষেত্র তুলে ধরা হচ্ছে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সংযোগকে সামনে রেখে তৈরি এই আয়োজনের পেছনে কাজ করেছে প্রায় ১৪৭টি সংস্থা।
ইকাতেরিনবার্গে তাই এখন উৎসবের পাশাপাশি চলছে ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক নীরব প্রস্তুতি। অলিভিয়ার মতো হাজারো তরুণের কাছে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়, নতুন ধারণার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং সীমান্তের ওপারে বন্ধুত্ব তৈরি করাই হয়তো এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।




