বাংলাদেশের কাছে হারের পর যে শঙ্কার কথা জানালেন পেসার আমির
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের দুর্গে একের পর এক আঘাত হানেন পেসার নাহিদ রানা। তার গতিময় বোলিং তোপে নাস্তানাবুদ হয় পাকিস্তান। ব্যক্তিগত প্রথম ফাইফার পান নাহিদ রানা। ১১৪ রানের লক্ষ্যে তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ফিফটিতে হাতে ৮ উইকেট রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ।
এমন হারের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানকে নিয়ে তুলোধোনা করলেন স্বদেশি পেসার মোহাম্মদ আমির। ম্যাচ হারের পর তিনি জানালেন, এমন পারফর্ম্যান্সে আমরা যেনো সহযোগী দেশ না হয়ে যাই!
আলাপের শুরুতে তিনি বলেন, টসে জিতে বাংলাদেশ আমাদের ব্যাটিংয়ে পাঠায়। আর বরাবরের মতই আমদের আবারও ব্যাটিংধস নামে, দলে তিন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সালমান, রিজওয়ান, ফারহানের থাকার পরেও। বাংলাদেশ স্মার্ট খেলেছে। আমরা ভেবেছিলাম, ওখানে টার্নিং উইকেট থাকবে। কিন্তু গতিময় উইকেট বানিয়ে তারা আমাদের চমকে দিয়েছে। বলা যায়, পাকিস্তানের সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন এসেছে! ওরা বাউন্সি উইকেট বানিয়েছে। ভালো বাউন্স ছিল।
নাহিদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলে যখন একজন ১৪০ গতির পেসার থাকে, তখন ব্যাটসম্যানদের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পরে। আজকে কেবল একজন বোলারই ১৪০ কিলোমিটার গতিতে নিয়মিত বল করছিল, সেই ৫ জনকে আউট করেছে। নাহিদ রানা পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে এসেও এভাবে আউট করেছে।
ব্যাটিংয়ে টেকনিক বদলানোর কথা জানিয়ে আমির বলেন, আগেও বলেছি, বিশ্বকাপের সময় টিভিতে অনুষ্ঠানের সময়, অনুশীলনে বোলিং মেশিনে দিয়ে যখন শট মারার চেষ্টা করবেন, ম্যাচে গতির সঙ্গে বোলার এলে বিপদে পড়তেই হবে। যেখানেই হোক, গতির বলের সামনে অনুশীলন করতে হবে ওসব শট আর ডিফেন্সের। পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স এমন নয় যে ওপর থেকে বল ছুড়ছে, আর আপনি এভাবে ডিফেন্স করছেন।
পাকিস্তানের ব্যাটিংধস নিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমান ছেলেপেলেরা শুধু মিড উইকেটেই খেলে। অফ স্টাম্পে বল এলে বুঝতেই পারে না! মাজ সাদাকাতকেই দেখুন, বুঝতে পারছি এটা তার প্রথম ম্যাচ, টেনশন থাকে, চাপ থাকে। সমস্যা হলো, রান না করতে পারা এক ব্যাপার, কিন্তু টেকনিক খোলাসা হয়ে যাচ্ছে। এই টেকনিক তো থাকবে যে অফ স্টাম্পের বল ছাড়তে হবে বা কীভাবে খেলতে হবে।
শামিল প্রথমে মিড উইকেটে মারতে গেলে তার ক্যাচ পড়েছে। পরে আবার নাহিদ রানাকে মিড উইকেটে মারতে গিয়েছে। তাদের এটা বোঝতে হবে, যেখানকার বল, সেখানে যেন খেলে। ছক্কা অফ সাইডেও হতে পারে, মিড অফ দিয়েও হতে পারে। আসল সমস্যা হয়, যেখানে আমরা প্র্যাকটিসটা শুরু করি।
পাকিস্তান ক্রিকেট ভবিষ্যত নিয়ে আমির বলেন, আমরা বাংলাদেশের কাছে হারতে শুরু করছি। ভয় লাগতে শুরু করছে, আমরা যেনো সহযোগী দেশ না হয়ে যাই!
পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সিনিয়রদের সঙ্গে তরুণদের মিশ্রণে আপনার একটা ব্যালান্সড দল বানান। চার-পাঁচ সিনিয়রকে পাশে সরিয়ে সব তরুণদের খেলানো, এভাবে দল হয় না। তরুণদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্যও কিছু সিনিয়র লাগে।
পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের কাছে হেরেছে। জানি না, আমাদের ক্রিকেট আর কোথায় যাবে! আফসোস, এরকম হওয়া উচিত নয়।

-69b2802a3d3f0.jpg)