Logo
Logo
×
   

খেলা

মাঠে দুবার জ্ঞান হারালেন মুসিয়ালা, ধরা পড়ল কঠিন রোগ

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

মাঠে দুবার জ্ঞান হারালেন মুসিয়ালা, ধরা পড়ল কঠিন রোগ

সম্প্রতি খেলার মাঠে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুবার জ্ঞান হারান জার্মানির তরুণ ফুটবলার জামাল মুসিয়ালা।

জার্মান ফুটবলের বিস্ময় বালক এবং বায়ার্ন মিউনিখের বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাণ্ডারি জামাল মুসিয়ালা মাঠের চিরচেনা লড়াই ছাড়িয়ে এবার এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। 

গত মৌসুমের (২০২৫-২৬) বেশিরভাগ সময় ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর, পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পাওয়ার আগেই এক স্নায়বিক (নিউরোলোজিক্যাল) সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। 

সম্প্রতি খেলার মাঠে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুবার জ্ঞান হারান জার্মানির তরুণ ফুটবলার জামাল মুসিয়ালা। এর প্রেক্ষিতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ২৩ বছর বয়সি এই ফুটবলার ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ নামক এক ধরনের খিঁচুনিজনিত রোগে ভুগছেন। 

সবশেষ গত পরশু হেইডেনহেইমের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার ৮ মিনিটের মধ্যে মুসিয়ালা পুনরায় মাঠে লুটিয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। 

বায়ার্ন মিউনিখ কর্তৃপক্ষের কাছে মুসিয়ালার স্বাস্থ্যই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে ২৩ বছর বয়সি এই তারকার চিকিৎসায় নিয়োজিত বিশেষজ্ঞরা ক্লাবকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, উচ্চমানের পেশাদার ফুটবলে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে কোনো চিকিৎসাজনিত বাধা নেই। 

এ প্রসঙ্গে বায়ার্নের অনারারি প্রেসিডেন্ট উলি হোয়েনেস জানিয়েছেন, মুসিয়ালার এই শারীরিক অবস্থার কথা বায়ার্ন কিছুদিন আগে থেকেই জানত। তবে প্রথম ঘটনার চার দিনের মাথায় পুনরায় একই ঘটনা ঘটায় পুরো ক্লাব স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। 

স্কাই স্পোর্টসকে হোয়েনেস বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ওষুধ খাওয়ার পর দ্রুতই হয়তো এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। কিন্তু চার দিন পর একইভাবে আবার ঘটনাটি ঘটলে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।’ 

এমন অবস্থায় মুসিয়ালা কি নতুন মৌসুমে দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন? এ নিয়ে হোয়েনেস বলেন, ‘আমাদের কাছে চিকিৎসকদের লিখিত নিশ্চিতকরণ চিঠি রয়েছে। কারণ, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। নিউরোলজিস্ট ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন জামালকে খেলায় রাখতে কোনো বাধা নেই। এই লিখিত সনদ ছাড়া তাকে খেলতে দেওয়া আমাদের পক্ষ থেকে চরম অবহেলা হতো।’ 

বায়ার্ন আপাতত মুসিয়ালার ক্যারিয়ার থামানোর মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছে না। বরং সতর্ক থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এগোচ্ছে। উলি হোয়েনেস নিশ্চিত করেছেন যে মুসিয়ালা প্রতিদিন নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন এবং তাকে মাঠে নামানোর আগে ক্লাবের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের পূর্ণ মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে এত অল্প সময়ে বারবার ঘটনাটি ঘটায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হোয়েনেস আরও বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেছি। বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে খেলার অনুমতি দিয়েছেন। তবে সত্যি বলতে, এমন পরিস্থিতিতে আমি খুব কমই পড়েছি যেখানে সমাধান খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। এটি একটি নতুন পরিস্থিতি, আমাদের ধীরে ধীরে পথ চলতে হবে।’ 

এই কঠিন সময়ে সতীর্থদেরও পাশে পাচ্ছেন মুসিয়ালা। ক্লাবের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এই তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে বলেন, ‘জামাল এখন একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর এই ছোট সমস্যাটি নিয়ে পোস্ট করেছে। দলের পক্ষ থেকে আমাদের মূল দায়িত্ব ওকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া।’ 

ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার জন্য মুসিয়ালার পরিশ্রমের প্রশংসা করে কেইন যোগ করেন, ‘গত মৌসুমে ইনজুরি থেকে ফেরার জন্য ও পর্দার আড়ালে কতটা কষ্ট করেছে তা আমি জানি। ক্লাব, বন্ধু ও পরিবার—সবাই ওর পাশে আছে।’ 

জানা গেছে, বর্তমানে মুসিয়ালার ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আশঙ্কার কারণ নেই। এখন মূল লক্ষ্য ওষুধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে মাঠের ভেতর ও বাইরে তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। 

আপাতত বায়ার্ন মিউনিখেরও বার্তা স্পষ্ট—তারা ধৈর্য ধরে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চায়, যাতে জামাল মুসিয়ালা নিরাপদে তার ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে পারেন।  

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম