প্রিমিয়ার লিগে নতুন মৌসুমে নজর থাকবে যে পাঁচ তারকার দিকে
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শুক্রবার (২১ আগস্ট( শুরু হচ্ছে ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম। শিরোপার লড়াইয়ের উত্তেজনার পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বড় অঙ্কের কয়েকটি দলবদলও। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়া তারকাদের পারফরম্যান্স কেমন হয়, সেটিও হয়ে উঠতে পারে ২০২৬-২৭ মৌসুমের অন্যতম আকর্ষণ। বড় দলবদল, নতুন কোচ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কারণে বিশেষ নজরে থাকবেন পাঁচ ফুটবলার।
মর্গান রজার্স — চেলসি
অ্যাস্টন ভিলা থেকে ব্রিটিশ রেকর্ড ১১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দিয়েছেন মর্গান রজার্স। নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে চেলসির পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখার দায়িত্ব পড়েছে ২৪ বছর বয়সি এই ইংলিশ মিডফিল্ডারের ওপর।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র দশম স্থানে শেষ করেছিল চেলসি। সেই হতাশা কাটিয়ে দলকে উপরের দিকে তুলতে রজার্সের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই তারকার ওপর তাই প্রত্যাশাও অনেক।
চেলসিতে রজার্সের পুরোনো বন্ধু কোল পালমারও রয়েছেন। দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া নতুন ক্লাবে রজার্সের মানিয়ে নেওয়া সহজ করতে পারে। তবে একই ধরনের পজিশনের দুই প্রতিভাকে আলোনসো কীভাবে একসঙ্গে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেন, সেটিও হবে দেখার বিষয়।
এলিয়ট অ্যান্ডারসন — ম্যানচেস্টার সিটি
রজার্সের চেলসিতে যাওয়ার আগে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটেনের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ছিলেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া ২৩ বছর বয়সি মিডফিল্ডারের সামনে তাই শুরু থেকেই বড় প্রত্যাশা।
সিটির মাঝমাঠে রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভা চলে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। সেই ঘাটতি পূরণে অ্যান্ডারসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পজিশনিং, পাসিং ও চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় খেলার দক্ষতার কারণে তার ওপর বড় বিনিয়োগ করেছে সিটি।
টানা দুই মৌসুম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা না পাওয়া ম্যানচেস্টার সিটি এবার আর্সেনালের কাছ থেকে মুকুট পুনরুদ্ধার করতে চাইবে। সেই অভিযানে অ্যান্ডারসনের পারফরম্যান্স বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রুনো গিমারায়েস — আর্সেনাল
মর্গান রজার্সকে দলে না পেলেও মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করেছে আর্সেনাল। নিউক্যাসল থেকে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে আনতে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মিকেল আর্তেতার দলে গিমারায়েসের সঙ্গে মাঝমাঠে থাকবেন ডেক্লান রাইস ও মার্টিন ওডেগার্ড। ফলে আর্সেনালের মধ্যভাগে যোগ হয়েছে আরও একজন শক্তিশালী, পরিশ্রমী ও বল দখলে দক্ষ খেলোয়াড়।
নতুন সতীর্থের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ায় সন্তুষ্ট ওডেগার্ডও। এখন অনুশীলনে তৈরি হওয়া সেই বোঝাপড়া প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
সান্দ্রো টোনালি — টটেনহ্যাম
নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সান্দ্রো টোনালির নাকি সময় লেগেছিল মাত্র ১০ মিনিট। এবার সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করার পালা ইতালিয়ান মিডফিল্ডারের।
নিউক্যাসলের হয়ে গত মৌসুমের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ২৬ বছর বয়সি টোনালি। তার পরিশ্রম, বল নিয়ন্ত্রণ এবং মাঝমাঠে প্রভাব রাখার ক্ষমতা দলটির জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এবার টটেনহ্যামের পুনর্গঠন প্রকল্পে কোচ রবার্তো ডি জারবির অধীনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি। রেলিগেশন এড়ানোর পর টটেনহ্যাম এবার আরও ভালো অবস্থানে যেতে চায়। তবে বড় অঙ্কের দলবদল ফি টোনালির ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি করছে, সেটিও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
জেরেমি জ্যাকে — লিভারপুল
গত মৌসুমের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে জেরেমি জ্যাকেকে দলে ভিড়িয়েছে লিভারপুল। মাত্র ২১ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডারের জন্য তাই শুরুতেই বড় দায়িত্ব অপেক্ষা করছে।
লিভারপুলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের বয়স এখন ৩৫। এর সঙ্গে রক্ষণভাগে একাধিক পরিবর্তনও এসেছে। ইব্রাহিমা কোনাতে রিয়াল মাদ্রিদে এবং অ্যান্ড্রু রবার্টসন টটেনহ্যামে চলে যাওয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে অ্যানফিল্ডের রক্ষণে।
শীতকালীন দলবদলে ফ্রেঞ্চ ক্লাব রেনে থেকে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ডে জ্যাকের দলবদল নিশ্চিত করেছিল লিভারপুল। এখন ফন ডাইকের সঙ্গে তার বোঝাপড়া কত দ্রুত গড়ে ওঠে, সেদিকেই থাকবে নজর।
ফন ডাইকও মনে করছেন, নতুন জুটির মধ্যে সমন্বয় তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে মৌসুম যত এগোবে, দুজনের বোঝাপড়া কতটা দৃঢ় হয়, তার ওপর লিভারপুলের রক্ষণভাগের কার্যকারিতার বড় অংশ নির্ভর করতে পারে।
