Logo
Logo
×
   

খেলা

ফলো-অন সিদ্ধান্তে যা বললেন ভারতীয় অধিনায়ক

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

ফলো-অন সিদ্ধান্তে যা বললেন ভারতীয় অধিনায়ক

কলম্বো টেস্টে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ভারতকে। ফলো-অনে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচ বাঁচিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে ভারত।

ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল মনে করেন, সে সময়কার পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় দ্রুত ম্যাচের ফল বের করার লক্ষ্যেই ভারত এই কৌশল নিয়েছিল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গিল বলেন, ড্রয়ের ফল হতাশাজনক হলেও এটিকে হারের মতো মনে হচ্ছে না।

তার মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রীলঙ্কা যে লড়াই করে ম্যাচ বাঁচিয়েছে, তার জন্য তারা প্রশংসার দাবিদার। ভারত জিততে চেয়েছিল বলেই ড্রয়ে হতাশা থাকলেও সব পরিকল্পনা সবসময় সফল হয় না। অধিনায়ক হিসেবে এই ম্যাচ থেকে তারও অনেক কিছু শেখার আছে বলে জানান গিল।

ফলো-অন প্রসঙ্গে ভারতীয় অধিনায়ক বলেন, সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত তাদের বিপক্ষে গেছে বলে তিনি মনে করেন না। ভারত ইতোমধ্যে ২৫০ ওভারের বেশি সময় ফিল্ডিং করেছিল। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং না করে শ্রীলঙ্কাকে আবার ব্যাট করানোর ঝুঁকি নিয়েছিল দল। তার যুক্তি, ফলো-অন না করিয়ে ভারত নিজেরা ব্যাট করলে এবং পরে বৃষ্টি এসে ম্যাচের সময় নষ্ট হলে তখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত।

গিলের মতে, মাঠের সেই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি ছিল, সেটির ভিত্তিতেই সম্ভাব্য সেরা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরে ফলাফল দেখে সিদ্ধান্তকে বিচার করা সহজ হলেও ম্যাচ চলাকালে সবকিছু আগেভাগে অনুমান করা সম্ভব নয়।

শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের প্রশংসা করে গিল বলেন, ম্যাচের শেষ তিন দিনে এলবিডব্লিউ বা বোল্ড করে উইকেট নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। শুরুতে ভারত আক্রমণাত্মকভাবে বোলিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে পিচ আরও ধীর হয়ে যায়। বল প্রত্যাশিত গতিতে ঘোরেনি এবং ব্যাটিংয়ের জন্য পরিস্থিতিও সহজ হয়ে ওঠে।

ভারতের অধিনায়ক আরও জানান, চতুর্থ দিনে ভারত বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল এবং তখন এক-দুটি উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। তবে সময়ের সঙ্গে পিচের গতি কমে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের জন্য টিকে থাকা সহজ হয়ে যায়।

গিলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্যাটাররা যখন জানে এলবিডব্লিউ কিংবা বোল্ড হওয়ার ঝুঁকি কম, তখন রান করার তাড়াও না থাকলে তাদের জন্য ব্যাটিং অনেক সহজ হয়ে যায়। ভারত একদিকে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে নিজেদের ওপরও কিছুটা চাপ ছিল। ফলে একটা পর্যায়ে আক্রমণের মাত্রা কিছুটা কমাতে হয়েছে।

ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের মূল ভাবনাও ব্যাখ্যা করেছেন গিল। তার মতে, চতুর্থ দিনে প্রায় দেড় সেশন অপেক্ষা করে শ্রীলঙ্কাকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার পরিবর্তে ফলো-অন করিয়ে প্রয়োজনে নিজেদের হাতে থাকা সময় অনুযায়ী রান তাড়া করে জয়ের চেষ্টা করাই বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার দৃঢ় প্রতিরোধে সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। তবে গিল মনে করেন, ভারত নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং শ্রীলঙ্কাও অসাধারণ লড়াই করেছে। পিচ পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধব না হওয়ায় এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য লঙ্কানদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম