সরকারের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে ছাড় নয়: মাহ্দী আমিন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয়সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি -পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে এক উচ্চতর জায়গায় নিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ৫ দিনের সফর শেষে রোববার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সরকারের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট আটটি এবং ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। এছাড়া তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।’
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি ছিল এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের মতো সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য সরকারের গৃহীত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। আমরা আশা করছি, এগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করেন। সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবিলা, ন্যায়সংগত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবাবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বা অংশগ্রহণ করেন।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় সভাকক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনেরও আশ্বাস পেয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশের পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অনেক সফলতা রয়েছে। এই সফর দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় করার যে রেওয়াজ ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের জমায়েত সমর্থন বা উৎসাহিত করেননি। শিবলী বলেন, ‘আমাদের প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি গুণগত পরিবর্তন।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের ছোট আকারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তার সফরসঙ্গী দলে সদস্য ছিলেন মাত্র ৩৫ জন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে বিশাল বহর নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে রোববার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ-সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
অপকর্ম করলে ছাড় নয় : এদিকে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন তার নিজ গতিতে চলবে। দেশের আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’ বোয়িং উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট জানান, কোনো বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
