জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার
Advertisement
এম এ খালেক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রচ্যের মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। আর এর ধাক্কা বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর যে বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্স আয় করে, এর বেশির ভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি মুসলিম দেশ থেকে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়তে পারে। সমস্যা-সংঘাত সত্ত্বেও গত অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) বাংলাদেশ রেকর্ড অঙ্কের রেমিট্যান্স আয় করতে সক্ষম হয়েছিল। সংখ্যাটি ছিল মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছর অর্জিত রেমিট্যান্সের অঙ্কটি ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স আয়ের অঙ্ক বেড়েছে ৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ইতিবাচক নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। মূলত এ কারণেই গত অর্থবছরের শেষের চার মাস মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। সেসময় কার্ব মার্কেটে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ থেকে ১২৬ টাকা। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় বেশি অর্থ পেতে হুন্ডির আশ্রয় নিতে থাকে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে হলে প্রবাসী বাংলাদেশিকে সরাসরি ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে হয়। কিন্তু হুন্ডিতে এ সমস্যা নেই। কারণ হুন্ডি ব্যবসায়ীরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের আবাসিক স্থলে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে তা বাংলাদেশে স্থানীয় বেনিফিশিয়ারিদের কাছে পৌঁছে দেন। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করার জন্য স্থানীয় ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ধারিত হারে নগদ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করলেও তা ছিল খুবই সামান্য। কিন্তু হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে হলে সেই বৈদেশিক মুদ্রা কার্ব মার্কেটে বিক্রি করা হলে স্থানীয় মুদ্রায় অনেক বেশি অর্থ পাওয়া যাচ্ছিল।
২০২৪ সালের ৮ মে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্রলিং পেগ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। ক্রলিং পেগ পদ্ধতি আরোপের দিনই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মার্কিন ডলারের মধ্যবর্তী দর ১১৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হয়। মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ চ্যানেলে তাদের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে গত অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) বাংলাদেশ রেকর্ড অঙ্কের ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন রেমিট্যান্স লাভ করতে সক্ষম হয়। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭ম। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ভারতের পরই। ভারত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভারত ১৪৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স লাভ করে। বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বেশিসংখ্যক জনশক্তি রপ্তানি করলেও রেমিট্যান্স আয়ের ক্ষেত্রে আনুপাতিকভাবে কম রেমিট্যান্স অর্জন করছে। কারণ বাংলাদেশ প্রধানত অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠায়। আর ভারত বা অন্যান্য দেশ পেশাজীবী এবং দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জনশক্তি রপ্তানি খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুটি খাত হচ্ছে পণ্য ও সেবা রপ্তানি এবং জনশক্তি রপ্তানি। এখনো পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকেই সবচেয়ে বেশি অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। আর পণ্য রপ্তানির সিংহভাগজুড়ে আছে তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত থেকে। কিন্তু জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের চেয়ে জনশক্তি খাত বেশি সম্ভাবনাময়। তৈরি পোশাক খাতের জন্য আবশ্যিক উপকরণ যেমন, কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে এ খাতে অর্জিত মোট রপ্তানি আয়ের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বিদেশে চলে যায়। অন্যদিকে জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য কোনো উপকরণ আমদানি করতে হয় না। ফলে এ খাত থেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, তার প্রায় সবটাই জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করে। বাংলাদেশের রিজার্ভ গঠনে রেমিট্যান্সের অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ। প্রতিবছর আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয় তার ভার বহন করার জন্য রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ খরচ করতে হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার স্বল্পতা দেখা দেওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়। সে অবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
জনশক্তি রপ্তানি খাত শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে তা নয়, এ খাত একইসঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১৭৬টি দেশে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি নিয়োজিত রয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক মানুষের বেশির ভাগই স্বল্পশিক্ষিত ও অদক্ষ। এরা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না পেলে দেশের বেকার সমস্যা কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। বাংলাদেশ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে ১৯৭৬ সালে। সে বছর মধ্যপ্রাচ্যের একটি মুসলিম দেশে ৬ হাজার ৮ জন শ্রমিক রপ্তানি করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছরই জনশক্তি রপ্তানির আকার শুধু বাড়ছেই। বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৩ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থান উপলক্ষ্যে বিদেশে গমন করে। এর বিপরীতে প্রতিবছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ বাংলাদেশি নানা কারণে দেশে ফেরে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় এ খাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সীমিতসংখ্যক দেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং দক্ষ ও পেশাজীবী রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি করা হয়েছিল, তার মধ্যে পেশাজীবীর হার ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হয় ২৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। আধা দক্ষ এবং স্বল্পদক্ষ (আসলে অদক্ষ) জনশক্তি রপ্তানি করা হয় যথাক্রমে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ৭১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ১৩ বছর পর ২০২২ সালে এসে এ অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ২০২২ সালে রপ্তানি করা মোট জনশক্তির মধ্যে পেশাজীবীর হার ছিল শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ। দক্ষ শ্রমিকের হার ছিল ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। আধা দক্ষ শ্রমিকের হার ছিল ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর স্বল্পদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি করা হয় ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অন্য একটি সূত্রমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রপ্তানি করা হয় তার মধ্যে পেশাজীবী ও দক্ষ জনশক্তির হার ছিল ৭ থেকে ১০ শতাংশ। আধা দক্ষ শজনশক্তি রপ্তানি করা হয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। আর অদক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করা হয় ৭০ শতাংশের কিছু বেশি। অন্যদিকে ভারত প্রতিবছর যে জনশক্তি রপ্তানি করে তার মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই পেশাজীবী ও দক্ষ জনশক্তি। আধাদক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। অদক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হয় ২৫ শতাংশের মতো। ভিয়েতনাম প্রতিবছর যে জনশক্তি রপ্তানি করে তার মধ্যে পেশাজীবী ও দক্ষ জনশক্তির হার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকা প্রতিবছর যে জনশক্তি রপ্তানি করে তার মধ্যে পেশাজীবী ও দক্ষ জনশক্তির হার যথাক্রমে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ১৭৬টি দেশে জনশক্তি রপ্তানি করলেও মোট রেমিট্যান্সের ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ থেকে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো থেকে আসত মোট রেমিট্যান্সের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্থরতার কারণে এসব দেশে জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা কমে গেছে। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। মধ্যপ্রচ্যের ৬টি মুসলিম দেশ থেকে রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেক এলেও যে জনশক্তি প্রতিবছর রপ্তানি করা হয় তার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এসব দেশে যায়। তার অর্থ হচ্ছে জনশক্তি বেশি রপ্তানি করা হলেও তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের হার অন্য দেশগুলোর অনুপাতে কম। আমরা পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি করতে পারলে এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অঙ্ক আরও ব্যাপকভাবে বাড়ত।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতটি প্রথম থেকেই ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এ খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্রবাস গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অন্য দেশ থেকে যে অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিদেশে কর্মসংস্থান উপলক্ষ্যে যাওয়া যায়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে তার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। জনশক্তি রপ্তানি খাতটি যদি পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যেত, তাহলে এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করে। জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বিষয়টি এরকম হতে পারে-বাংলাদেশ থেকে যারা বিদেশে গমন করবেন, তাদের অর্থায়ন করবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। কর্মী বিদেশে যাওয়ার পর যে অর্থ উপার্জন করবেন, তা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠাতে হবে। ব্যাংক নির্ধারিত চুক্তি মোতাবেক তার ঋণের অর্থ কেটে রাখবে। অবশিষ্ট অর্থ প্রবাসী বাংলাদেশির স্থানীয় সুবিধাভোগীর কাছে হস্তান্তর করবে। ব্যাংক নানাভাবে চেষ্টা করবে যাতে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা রেমিট্যান্সের অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করেন।
বাংলাদেশে প্রতিবছর যে বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্স আসে তার সিংহভাগই অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয়িত হয়। যেমন : জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, ফ্রিজ-টেলিভিশন ক্রয় ইত্যাদি কাজে খরচ করা হয়। এসব খাতে ব্যয় করা হয় মোট রেমিট্যান্সের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে বাড়িঘর নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হয় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা যেতে পারে। এটা করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেগবান হবে।
বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, প্রশিক্ষিত ও কর্মদক্ষ জনশক্তি একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আর অপ্রশিক্ষিত ও অদক্ষ জনশক্তি একটি দেশের জন্য বিরাট ‘দায়’ হিসাবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল একটি দেশ। এ দেশে যে বিপুলসংখ্যক সৃজনশীল মানুষ আছে তাদের আমরা সম্পদ হিসাবে গড়ে তুলব নাকি ‘দায়’ হিসাবে রেখে দেব, সে সিদ্ধান্ত আমাদের এখন নিতে হবে।
এম এ খালেক : অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি; অর্থনীতিবিষয়ক লেখক
