বিশ্বের শীর্ষ ৫ তেল আমদানিকারক দেশ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
বিশ্বের মোট আমদানিকৃত তেলের বড় অংশই ক্রয় করছে মাত্র ৫টি দেশ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অপরিশোধিত তেল বা ‘ক্রুড অয়েল’-এর বিকল্প নেই। আধুনিক শিল্পায়ন, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দেশগুলোকে এই ‘ব্ল্যাক গোল্ড’-এর দিকে তাকাতে হয়। ‘ওয়ার্ল্ডস টপ এক্সপোর্টস’-এর ২০২৪ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট আমদানিকৃত তেলের বড় অংশই ক্রয় করছে মাত্র ৫টি দেশ।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই শীর্ষ ৫টি দেশ মিলিতভাবে বিশ্বের মোট তেল আমদানির ৬০.৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তালিকায় এশিয়ার দেশগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
চীন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছে। বিশাল শিল্প খাত এবং পরিবহন ব্যবস্থার চাহিদা পূরণে দেশটিকে বিপুল পরিমাণ তেল বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৪ সালে চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১.১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। আর্থিকভাবে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের মোট আমদানিকৃত তেলের ২৪.৬ শতাংশ। তবে, আগের বছরের তুলনায় তাদের আমদানির ব্যয় সামান্য কমেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে হ্রাসের হার ছিল ৩.৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ার পরেও, নিজস্ব বিশাল চাহিদার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক। দেশটির অর্থনীতির আকার এত বিশাল যে, নিজেদের উৎপাদিত তেল দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এতে দেশটির খরচ হয়েছে ১৭৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্ববাজারে তাদের শেয়ার ১৩.২ শতাংশ।
ভারত
দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারত তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ভারতের জ্বালানি খাত প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে দেশটি ১৪৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তেল আমদানি করেছে, যা বিশ্ববাজারের ১০.৮ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির চাকা যত ঘুরছে, জ্বালানির চাহিদা তত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাদের আমদানির ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
দক্ষিণ কোরিয়া
তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির নিজস্ব কোনো তেলের খনি নেই, কিন্তু বিশাল রিফাইনারি শিল্প থাকার কারণে তারা শতভাগ আমদানি নির্ভর। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ৮৫.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তেল আমদানি করেছে, যা বৈশ্বিক আমদানির ৬.৫ শতাংশ। তবে, আগের বছরের তুলনায় তাদের আমদানির পরিমাণ সামান্য কমেছে।
জাপান
পঞ্চম স্থানে রয়েছে জাপান। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দেশটি পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালে জাপান ৭১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তেল আমদানি করেছে। বিশ্ববাজারে তাদের শেয়ার ৫.৪ শতাংশ। তবে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে জাপানেই আমদানির সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় তাদের আমদানির ব্যয় ১১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
২০২৪ সালের এই পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, তেল আমদানির বিশ্ববাজার এখন মূলত এশিয়ার দেশগুলোর দখলে। শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে ৪টি এশিয়ার। এই ৫টি দেশ মিলিতভাবে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের শক্তিশালী অবস্থানকে প্রমাণ করছে।

