Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন, কঠোর হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইরানে চলমান তীব্র বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট নিরসনে কূটনীতিই অগ্রাধিকার পাচ্ছে, তবে প্রয়োজনে বিমান হামলার মতো কঠোর সামরিক পদক্ষেপও গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সোমবার (১২ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বদা সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখতে পছন্দ করেন। তার ভাষায়, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের সামনে থাকা অসংখ্য বিকল্পের মধ্যে বিমান হামলা অন্যতম একটি পথ। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হন না এবং ইরান এটি খুব ভালোভাবেই জানে। তবে মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক আলোচনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণবিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অধিকারকর্মীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সহিংসতার ভয়াবহ খবর প্রকাশ করছে। এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সামরিক হুমকির পাশাপাশি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক ঘোষণায় তিনি জানান, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক (ট্যারিফ) দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই ঘোষণাটিকে তিনি ‘চূড়ান্ত ও অখণ্ডনীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। চীন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের চাপে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার হুমকির মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার (১০ জানুয়ারি) দাবি করেছেন যে ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জনসম্মুখে ইরান সরকার কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেও পর্দার আড়ালে বা ব্যক্তিগতভাবে তাদের বার্তার সুর অনেকটাই ভিন্ন। এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও এই পরিস্থিতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কেউ কেউ সরাসরি হামলার পরিবর্তে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম