তিলক পরায় হিন্দু ছাত্রকে বের করে দিল লন্ডনের স্কুল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ এএম
কিশোরের কপালে তিলক পরানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কপালে ধর্মীয় প্রতীক ‘তিলক’ পরার কারণে এক আট বছর বয়সি হিন্দু ছাত্রকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটি শেষ পর্যন্ত স্কুল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ব্রিটিশ হিন্দু ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থা ‘ইনসাইট ইউকে’ এই তথ্যটি সামনে এনেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী লন্ডনের ভিকারস গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীরা ওই শিশুকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাখ্যা দিতে চাপ দেন। একটি নাবালক শিশুর কাছে এভাবে তার ধর্মের কৈফিয়ত চাওয়াকে অত্যন্ত অপেশাদার এবং অনুচিত বলে আখ্যা দিয়েছে ইনসাইট ইউকে। শুধু তাই নয়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিরতির সময় শিশুটির ওপর এমনভাবে নজরদারি করতেন যা তাকে ভীত ও আতঙ্কিত করে তুলত। এর ফলে শিশুটি খেলাধুলা ছেড়ে দিয়ে নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে।
আরও অভিযোগ উঠেছে যে ধর্মীয় আচার পালনের কারণে শিশুটিকে স্কুলের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংস্থাটি বলছে, এটি সরাসরি ২০১০ সালের ব্রিটিশ সমঅধিকার আইনের লঙ্ঘন, যেখানে ধর্মকে একটি সংরক্ষিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ইনসাইট ইউকে-এর মুখপাত্র জানান, কোনো শিশুরই তার ধর্মের কারণে নিজেকে একা বা অন্যদের থেকে আলাদা মনে করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই আচরণটি করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা এবং অন্যান্য হিন্দু অভিভাবকরা তিলকের ধর্মীয় গুরুত্ব বোঝাতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদ সেসব কথা কানে তোলেনি বলে জানা গেছে।
ইনসাইট ইউকে অভিযোগ করেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে উল্টো হিন্দু ধর্মীয় আচার-আচরণকে অবমাননা করেছে। জানা গেছে, এ ধরণের ধর্মীয় বৈষম্যের কারণে এই স্কুলটি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন শিক্ষার্থী চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

