Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

চীনের ওপর আর আধিপত্য নয়, ভারসাম্য চায় যুক্তরাষ্ট্র

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২০ পিএম

চীনের ওপর আর আধিপত্য নয়, ভারসাম্য চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পেন্টাগনের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

প্রতি চার বছর অন্তর প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জানানো হয়েছে, চীন এখন আর ওয়াশিংটনের প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়। এর পরিবর্তে পেন্টাগন এখন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং পশ্চিম গোলার্ধের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত ৩৪ পৃষ্ঠার এই জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াশিংটন আমেরিকানদের প্রকৃত স্বার্থকে উপেক্ষা করে এসেছে।

নতুন এই কৌশলে মার্কিন মিত্রদের জন্য একটি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন স্পষ্ট করেছে যে এখন থেকে মিত্র দেশগুলোকে দেওয়া ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তার পরিমাণ হবে সীমিত। ইউরোপের মতো মিত্রদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য বড় হুমকি কিন্তু আমেরিকার জন্য কম উদ্বেগের এমন বিষয়গুলোতে যেন তারা নিজেরাই নেতৃত্ব দেয়। 

নথিতে দাবি করা হয়েছে, মিত্র দেশগুলো এতদিন আমেরিকার অর্থে নিজেদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে আসছিল, যা আর চলতে দেওয়া হবে না। তবে একে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ বলতে নারাজ পেন্টাগন; বরং তারা একে আমেরিকান স্বার্থের নিরিখে একটি ‘বাস্তববাদী পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পেন্টাগন এখন সংঘাতের বদলে শক্তির মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, আমেরিকার লক্ষ্য চীনকে শ্বাসরোধ করা বা অপমান করা নয়, বরং কোনো পক্ষ যাতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। 

উল্লেখ্য, এবারের প্রতিরক্ষা কৌশলে তাইওয়ানের কোনো উল্লেখ নেই, যা আগের সংস্করণগুলোতে নিয়মিত থাকত। অন্যদিকে প্রায় চার বছর ধরে ইউক্রেনে হামলা চালানো রাশিয়াকে এখন আমেরিকার জন্য সরাসরি কোনো হুমকি হিসেবে না দেখিয়ে ন্যাটোর পূর্ব দিকের সদস্যদের জন্য একটি ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতিতে পানামা খাল, মেক্সিকো উপসাগর এবং গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত এলাকাগুলোতে মার্কিন সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

পেন্টাগন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ‘কঠোর বাস্তববাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে যে, শীতল যুদ্ধ পরবর্তী কাল্পনিক আদর্শবাদের দিন শেষ। এদিকে এই পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করে বলেছেন, পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না এবং নিয়মহীন এক বিশ্বের দিকে ধাবিত হওয়া ঠেকাতে এখন মাঝারি শক্তির দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সূত্র: বিবিসি


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম