চ্যাটবটের সঙ্গে ‘বেশি মাখামাখি’ নয়: পোপ লিও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
পোপ লিও চতুর্দশ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট যখন বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু হয়ে ওঠে কিংবা মানুষের মানসিক ভরসার জায়গায় চলে যায়, তখন সেটি বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ।
সম্প্রতি ক্যাথলিক চার্চের বার্ষিক 'বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগ দিবস' উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, অতিমাত্রায় ‘স্নেহশীল’ বা ‘আবেগী’ চ্যাটবটগুলোর সঙ্গে মানুষের গভীর মানসিক বন্ধন তৈরি হওয়া রোধ করতে কঠোর বৈশ্বিক নীতিমালা প্রয়োজন। মার্কিন বংশোদ্ভূত এই পোপের মতে, এআই প্রযুক্তি মানুষের সৃজনশীলতা এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।
পোপ লিও লক্ষ্য করেছেন, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার সময় ব্যবহারকারীরা কার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন—কোনো মানুষ নাকি কোনো ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার বা বট—তা বোঝা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, চ্যাটবটগুলো যেহেতু সবসময় মানুষের পাশে থাকে এবং ব্যবহারকারীর প্রতি কৃত্রিম আবেগ প্রকাশ করে, সেহেতু এগুলো গোপনে মানুষের মানসিক অবস্থার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারে। এভাবে প্রযুক্তি মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বা আধ্যাত্মিক জীবনে অনুপ্রবেশ করে তা দখল করে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, পোপ লিও চতুর্দশ তার পূর্বসূরিদের তুলনায় ডিজিটাল জগতের সাথে অনেক বেশি যুক্ত। বিশপ থাকাকালীন তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ছিল এবং বর্তমান পোপ হিসেবেও তাকে স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করতে দেখা যায়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এআই-কে তার মেয়াদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছেন।
গত বছরের শেষ দিকে তিনি মেগান গার্সিয়া নামের এক নারীর সাথে দেখা করেছিলেন, যার ১৪ বছর বয়সী ছেলে একটি এআই চ্যাটবটের সাথে অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ আলাপের জেরে আত্মহত্যা করেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে পোপ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পোপ আরও জোর দিয়ে বলেন যে কোন সংবাদ বা কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি আর কোনটি মানুষের হাতে গড়া, তার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকতে হবে। তিনি সাংবাদিক ও বিষয়বস্তু নির্মাতাদের মালিকানা সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বলেন, তথ্য একটি জনকল্যাণমূলক সম্পদ। গণমাধ্যম এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কেবল কয়েক সেকেন্ডের বাড়তি মনোযোগ পাওয়ার লোভে নৈতিকতা বিসর্জন না দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
এছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি বড় কোম্পানির হাতে এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি মানুষের আচরণ এমনকি চার্চের ইতিহাসকেও সূক্ষ্মভাবে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
সূত্র: সিএনএন

-69770c4ff1215.jpg)