Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের বিতর্কিত নির্বাচনে জান্তা সমর্থিত দলের একতরফা জয়

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

মিয়ানমারের বিতর্কিত নির্বাচনে জান্তা সমর্থিত দলের একতরফা জয়

ফাইল ছবি

Advertisement

মিয়ানমারে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং ব্যাপক দমন-পীড়নের মধ্যেই সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে জান্তা সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। 

তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ও শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ঘোষণা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতার দখল নেওয়া সামরিক জান্তা তাদের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, নিম্নকক্ষের ২৬৩টি আসনের মধ্যে ২৩২টি এবং উচ্চকক্ষের ঘোষিত ১৫৭টি আসনের মধ্যে ১০৯টি আসনেই জয়লাভ করেছে ইউএসডিপি। সামরিক মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন, আগামী মার্চ মাসে সংসদ অধিবেশন ডেকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে এবং এপ্রিল মাসের মধ্যে একটি বেসামরিক লেবাসধারী নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। তবে দেশটির সংবিধানে আগে থেকেই সামরিক বাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকায় সরকার পরিবর্তন হলেও মূল নিয়ন্ত্রণ জান্তার হাতেই থাকছে।

এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনি সময়কালে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানান, মিয়ানমারের বিশাল একটি অংশ মূলত প্রাণভয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে অথবা ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বঞ্চিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুসহ বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ মানুষকে এই ভোটাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে, তারা এই নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেবে না। পশ্চিমা দেশগুলো এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে শুধুমাত্র সামরিক একাধিপত্য ধরে রাখার জন্য। 

যদিও জান্তা সরকারের দাবি, নির্বাচন ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিদ্রোহের কারণে মিয়ানমারে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা দেশটির স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম