Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য এখন ইসরাইলি অনুমতির হাতে

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য এখন ইসরাইলি অনুমতির হাতে

গাজা উপত্যকায় এক শিশু। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সীমান্ত অবরোধ ও চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এখন আর কেবল সাময়িক কোনো 'নিরাপত্তা ব্যবস্থা' নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর সম্মিলিত শাস্তির এক স্থায়ী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজার সীমান্ত পারাপারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ইসরাইলের হাতে চলে গেছে। এর ফলে গাজাবাসীর জীবনধারণ, খাদ্য সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির মতো মৌলিক অধিকারগুলো এখন পুরোপুরি ইসরাইলি অনুমতির ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের মে মাসে রাফাহ সীমান্ত পারাপারের ফিলিস্তিনি অংশের নিয়ন্ত্রণ ইসরাইল নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে গাজার বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র পথ হিসেবে পরিচিত এই সীমান্তটি বন্ধ করে দেওয়ায় মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলো আটকা পড়ে আছে এবং নষ্ট হচ্ছে টন টন খাদ্যসামগ্রী। 

বর্তমানে মুমূর্ষু রোগী, শিক্ষার্থী বা যুদ্ধাহতদের গাজা ত্যাগের বিষয়টি একটি অত্যন্ত জটিল ও ধীরগতির প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে গাজায় ১৮,৫০০-এর বেশি রোগী জরুরিভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকলেও মাত্র অল্প কয়েকজনকে সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চলাচলের এই নিয়ন্ত্রণ মূলত গাজাকে একটি স্থায়ী অবরোধের মধ্যে রাখার কৌশল। গত এক বছরে বিদেশের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা অন্তত ১,৬০০ ফিলিস্তিনি গাজার ভেতরেই মারা গেছেন। 

এমনকি যখন সীমিত আকারে সীমান্ত খোলা হয়, তখন ইসরাইলি বাহিনীর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় গাজাবাসীদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতি কেবল ভ্রমণের স্বাধীনতাই কেড়ে নেয়নি, বরং এটি গাজার শিক্ষা, অর্থনীতি এবং পারিবারিক বন্ধনকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।

২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে গাজার উত্তর অংশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করেছে যে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বাধা ও সড়ক বন্ধ করে রাখার ফলে গাজার সাধারণ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে। 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ইসরাইল চলাচলের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গাজাবাসীকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

সূত্র: আল জাজিরা।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম