Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৫০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, মার্কিন সমরাস্ত্রবহরে আর কী আছে

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৫০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, মার্কিন সমরাস্ত্রবহরে আর কী আছে

Advertisement

ইরানের ওপর যেকোনো সময় আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি গুঁড়িয়ে দিতে ওয়াশিংটন এ অঞ্চলে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ও এফ-২২ র‍্যাপ্টর স্টিলথ যুদ্ধবিমানের বিশাল এক বহর পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরাক যুদ্ধের দুই দশক পর মধ্যপ্রাচ্যে আকাশশক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্গে আছে যুদ্ধ জাহাজের বিশাল বহর। খবর এনডিটিভি, সিএনএন ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এত বিপুল পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধবিমান দেখা যাচ্ছে। এ বহরের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানে ঠাসা দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরি ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল যুদ্ধবিমান, যা বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।

ট্রাম্প ইরানে হামলা চালাবেন কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা গেছে। হামলার লক্ষ্য কি কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করা, নাকি তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, তা নিয়েও হোয়াইট হাউসে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে আছে এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ র‍্যাপ্টরের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এমনকি শেষ ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।

নৌবাহিনীও পিছিয়ে নেই। তারা মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১৩টি জাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে আছে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এবং একঝাঁক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।

বর্তমান প্রস্তুতি শক্তিশালী হলেও ১৯৯১ বা ২০০৩ সালের তুলনায় এটি সীমিত। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে অল্পসংখ্যক যুদ্ধবিমান দিয়েও এখন অনেক বেশি নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলা চালানো সম্ভব।

ট্রাম্পের সাজানো এই বহর দিয়ে ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালানো সম্ভব। তবে এবারের চ্যালেঞ্জ হলো, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। হোয়াইট হাউস জানায়, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী সপ্তাহান্তেই হামলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই অভিযানের ভালো-মন্দ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।

চুপ করে বসে নেই ইরানও। মার্কিন সম্ভাব্য হামলার নজিরবিহীন জবাব দিতে তেহরান তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডার ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এছাড়া জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অচল করে দিতে ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও ইরানের হাতে আছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম