Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মার্কিন শীর্ষ মিত্রদের ছাড়াই ওয়াশিংটনে শুরু ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

মার্কিন শীর্ষ মিত্রদের ছাড়াই ওয়াশিংটনে শুরু ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক

Advertisement

ইসলাইলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার শীর্ষে আছে ‘বোর্ড অব পিস’। বহুপ্রতীক্ষিত এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক বসেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে। এতে হাঙ্গেরি, আর্জেন্টিনাসহ অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এবং সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিলেও উপস্থিত হয়নি প্রধান মিত্ররা।

ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছেন বোর্ড অব পিসের বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধিরা। তাদের প্রথম বৈঠকে গাজার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পরবর্তী অবস্থার উন্নতির বিষয়টি মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্ররা এই সম্মেলনে অনুপস্থিত। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে এই সংস্থাকে ব্যবহারের মাধ্যমে জাতিসংঘের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন।

একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপ্রধানসহ অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগ দিতে ওয়াশিংটনের ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এ উপস্থিত হচ্ছেন বলে আশা করা হচ্ছে। উপস্থিত বিশ্বনেতাদের মধ্যে ছিলেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই—যারা উভয়েই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

সম্মেলনটি ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারের কিছু প্রিয় গানের মাধ্যমে শুরু হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের হাতে ইউএসএ লেখা লাল রঙের ‘মাগা’ তথা মেক আমেরিকা গ্রেট আগেইন বা যুক্তরাষ্ট্রকে আবার সেরা করি স্টাইলের টুপি তুলে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত হন স্বয়ং ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

জনসমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি তা অত্যন্ত সহজ—শান্তি।" তিনি একে একটি ‘সহজ শব্দ’ কিন্তু ‘বাস্তবায়ন করা কঠিন’ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন। 

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ হবে ‘আমার জড়িত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী কাজগুলোর মধ্যে একটি।’

ট্রাম্প গাজার জন্য একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বোর্ড সদস্যদের পক্ষ থেকেও অবদান থাকবে। প্রেসিডেন্ট গত সপ্তাহান্তে জানিয়েছিলেন যে, এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাম উল্লেখ করেননি।

এছাড়া গাজায় জাতিসংঘ-অনুমোদিত একটি স্থিতিশীল বাহিনী গঠনের বিস্তারিত পরিকল্পনাও তিনি উন্মোচন করবেন। ওই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, বেশ কিছু দেশ এই উদ্যোগে কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে।

সেই কর্মকর্তা আরও জানান, এই বৈঠকে মানবিক সহায়তা, গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনীসহ ‘সব প্রচেষ্টার ধারার’ সর্বশেষ আপডেটগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সম্মেলনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং গত মঙ্গলবার এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতারা’ বোর্ড অব পিসে যোগ দিচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি এটিকে গাজায় শান্তি প্রচেষ্টার তদারকির জন্য একটি সংস্থা হিসেবে উপস্থাপন করলেও, পরে এর পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে একে জাতিসংঘের আদলে একটি সংস্থায় রূপ দেন, যার উদ্দেশ্য হবে বড় বড় বৈশ্বিক সংঘাতগুলো মোকাবিলা করা।

আর্মেনিয়া, মিশর, হাঙ্গেরি, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বেশ কয়েকটি দেশ সম্মেলনে যোগদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও এটি এখনও অস্পষ্ট যে কতটি দেশ (যদি কেউ থাকে) স্থায়ী সদস্যপদের জন্য এই উদ্যোগে ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্ররা। যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, স্লোভেনিয়াসহ বেশ কিছু দেশ এই সংস্থায় যোগ দিতে অস্বীকার করেছে। 

তাদের কেউ কেউ এর সনদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেখানে গাজার কোনো সরাসরি উল্লেখ নেই এবং এটি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টাকে খর্ব করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পোপ লিও চতুর্দশ এই বোর্ডে যোগদানের জন্য ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি। ভ্যাটিকান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, এ ধরনের সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রাথমিক দায়িত্ব জাতিসংঘের।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ‘আমি মনে করি না যে শান্তি দলীয়, রাজনৈতিক বা বিতর্কিত হওয়া উচিত।’

ক্রেমলিনকে আমন্ত্রণ জানানোর পর রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়েও বিশ্বনেতাদের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এই সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন যে, রাশিয়া প্রথম সম্মেলনে যোগ দেবে না, তবে তারা এখনও তাদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের বিষয়ে ‘কাজ করছে’।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, তারা এই সম্মেলনের জন্য ভূমধ্যসাগরবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার দুব্রাভকা শ্যুইকা-কে ওয়াশিংটনে পাঠাবে, তবে এই জোট ট্রাম্পের বোর্ডে যোগ দেবে না।

সূত্র: এনবিসি নিউজ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম