ইরানের সমর শক্তিতে মার্কিন টমাহকের মরণ কামড়, কী পরিমাণ মজুদ আছে অস্ত্রটি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামক সামরিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ১৯ফর্টিফাইভ- থেকে জানা যায়, হামলার প্রথম ৭২ ঘণ্টাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিনগুলো থেকে প্রায় ৪০০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই স্বল্প পাল্লার অস্ত্রটি মূল ভূমিকা পালন করছে।
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কী?
টমাহক হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বল্প পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যেটি ভূমি এবং সাগর— উভয় জায়গা থেকেই ছোড়া যায়। সাধারণত সাগরে যুদ্ধজাহাজ থেকে এটি ছোড়া হয়। টমাহক সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম, এমনকি ব্যাপক শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রকে ঠেকাতে পারে না। যে কোনো দেশ বা ভূখণ্ডের গভীরে হামলার জন্য টমাহক আদর্শ ক্ষেপণাস্ত্র।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০ ফুট লম্বা। বিমানের মতো টমাহকেও দু’টি পাখা থেকে। ক্ষেপণাস্ত্রের মাঝামাঝি জায়গায় থাকা দুই পাখার প্রস্থ সাড়ে ৮ ফুট এবং ওজন ১ হাজার ৫১০ কেজি। এটি নন-নিউক্লিয়ার, অর্থাৎ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বেশ ব্যয়সাপেক্ষ সমরাস্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টমাহকের মজুদ কেমন
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সূত্র (যেমন সিএসআইএস এবং ১৯ফর্টিফাইভ) থেকে জানা যায়, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্যবহারের উপযোগী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল প্রায় ৩,৬০০ থেকে ৪,০০০ ইউনিটের মতো।
তবে বর্তমান যুদ্ধের উচ্চমাত্রার ব্যবহারের ফলে মজুতের প্রায় ১০ শতাংশ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এই ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদন হার মাত্র ৯০ থেকে ১০০ ইউনিটের কাছাকাছি, যা যুদ্ধের বর্তমান চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।
যদিও পেন্টাগন উৎপাদনের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অন্য কোনো সংঘাতের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের 'ব্লক ৫' সংস্করণের আধুনিকায়ন চলমান থাকলেও, নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: স্কাই নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও ১৯ফর্টিফাইভ।

