Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

যে কারণে ইরানের মুকুটমণি খারগ দ্বীপ, ট্রাম্পের নজরই বা কেন?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

যে কারণে ইরানের মুকুটমণি খারগ দ্বীপ, ট্রাম্পের নজরই বা কেন?

খারগ দ্বীপ

উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তরাংশের কৌশলগত খারগ দ্বীপটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। ইরানের তেল থেকে পাওয়া রাজস্বের ৯০ শতাংশের প্রাণকেন্দ্র এটি। যদিও ইরান দাবি করে-ক্রেতাদের কাছে তেল পৌঁছানোর বিকল্প উপায় তাদের হাতে রয়েছে। তারপরও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারানোটা তাদের জন্য নিশ্চিতভাবেই এক বড় ধাক্কা। খবর বিবিসির।

ইরানের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ : খারগ দ্বীপটি মূলত একটি ছোট পাথুরে দ্বীপ। এটি ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ১৫ নটিক্যাল মাইল (২৪ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। ইরানের অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপের একটি টার্মিনাল হয়ে আসে। এছাড়া এই দ্বীপটি আইআরজিসির রাজস্ব আয়ের একটি অন্যতম বড় উৎস।

যুক্তরাষ্ট্র কী কী ক্ষতি করেছে : গত ১৩ মার্চ ট্রাম্প বলেন, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমাহামলাগুলোর একটি পরিচালনা করেছে। ইরানের মুকুটমণি খারগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভদ্রতার খাতিরে’ তিনি ‘দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার ৫০ বছর আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর ছিল ইরানের এই খারগ দ্বীপের দিকে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি দখলের কথা বিবেচনা করছেন তিনি। অতীতের কিছু বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৯৮৮ সালে দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি খারগ দ্বীপের ওপর বড়সড় হামলা চালাব। আমি গিয়ে ওটা দখল করে নেব। ইরান তো ইরাককেই হারাতে পারে না, অথচ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চোখ রাঙায়। তাদের মোকাবিলা করাটা বিশ্বের জন্যই ভালো হবে।’ 

৩০ মার্চ ২০২৬ সালে ফক্স নিউজ রেডিওর এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে তার ওই ১৯৮৮ সালের মন্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, দ্বীপটি দখলের বিষয়টি তার ‘তালিকায় খুব একটা ওপরে নেই।’ তবে তিনি এ-ও জানান যে, ‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই’ তিনি তার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতে পারেন। একইদিনে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অনেকগুলো বিকল্প’ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। এর মানে এ-ও দাঁড়ায় যে, আমাদের সেখানে [খারগ দ্বীপে] কিছুদিন অবস্থান করতে হবে।’

উপসাগরীয় অঞ্চলে খারগ বাদেও আরও কিছু দ্বীপ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ছোট্ট দ্বীপ লারাক। হরমুজ প্রণালির ঠিক পাশেই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বান্দর আব্বাসের উপকূল ঘেঁষে এর অবস্থান। বর্তমানে তল্লাশির কথা বলে সব ট্যাংকারকে এই দ্বীপের পাশ দিয়ে যেতে বাধ্য করছে ইরান। এমনকি খবর রয়েছে, প্রতিটি নৌযান থেকে ২০ লাখ ডলার করে আদায়ও করা হচ্ছে। এরপর রয়েছে কিশম। এটি একটি বিশাল দ্বীপ, যেখানে ইরান ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঘাঁটি স্থাপন করেছে বলে সন্দেহ করা হয়। এছাড়া রয়েছে আরও তিনটি দ্বীপ-আবু মুসা এবং গ্রেটার ও লেসার টুনব। এগুলোর মালিকানা নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে বিরোধ থাকলেও, সবগুলোই এখন ইরানের দখলে। সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই দ্বীপগুলো একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছে, যা নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার পাশাপাশি ইরানকে দারুণ এক ভৌগোলিক সুবিধাও এনে দিয়েছে। তবে 

ঘটনাপ্রবাহ: ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম