Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব: ট্রাম্প

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব: ট্রাম্প

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক অভিযান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এর আগে হামলা আরও তীব্র হবে, এতটাই তীব্র যে তা দেশটিকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

হোয়াইট হাউস থেকে ১৯ মিনিটের এক ভাষণে ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ‘চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানে ‘কাজ’ শেষ করার ‘খুব কাছে’ পৌঁছে গেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমরা তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করব। আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, সেখানেই তাদের থাকা উচিত। এর মধ্যে আলোচনাও চলছে।’

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা ‘ব্যাপকভাবে সীমিত’ হয়ে পড়েছে এবং ‘অস্ত্র কারখানা ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের ইতিহাসে কখনো কোনো শত্রু এত কম সময়ে এত বড় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়নি।’ তবে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে ইরান এখনো পাল্টা হামলা করছে।

পারমাণবিক বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া উপকরণ এখন আর তার কাছে চিন্তার বিষয় নয়। ট্রাম্প বলেন, ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন থেকেই তিনি বলে আসছেন, ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান ‘নজিরবিহীন গতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে ছুটছিল।’ যদিও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা এই দাবি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামার পারমাণবিক চুক্তি চলতে থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না।’

ট্রাম্পের ভাষণের সবচেয়ে চমকপ্রদ মন্তব্য ছিল শাসন পরিবর্তন নিয়ে। তিনি বলেন, ‘শাসন পরিবর্তন আমাদের লক্ষ্য ছিল না। আমরা কখনো শাসন পরিবর্তনের কথা বলিনি। কিন্তু তাদের সব শীর্ষ নেতার মৃত্যুর কারণে শাসন পরিবর্তন ঘটে গেছে। তারা সবাই মারা গেছে।’

হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথে চলাচল করে। তিনি বলেন, এটি ‘স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে’ এবং উপসাগরীয় তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরা নিতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সহায়তা করব, তবে যারা এই তেলের উপর এত নির্ভরশীল, তাদেরই এটি রক্ষার নেতৃত্ব নেওয়া উচিত।’

ট্রাম্পের ভাষণ চলার সময় তেলের বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভাষণ শুরুর সময় দাম কমলেও শেষ হওয়ার সময় ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

ট্রাম্প এই যুদ্ধের মেয়াদকে অতীতের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলেছিল ১ বছর ৭ মাস ৫ দিন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ৩ বছর ৮ মাস ২৫ দিন, কোরিয়া যুদ্ধ ৩ বছর ১ মাস ২ দিন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর ৫ মাস ২৯ দিন এবং ইরাক যুদ্ধ ৮ বছর ৮ মাস ২৮ দিন। আর এই যুদ্ধ মাত্র ৩২ দিন।

তিনি বলেন, ‘এই সামরিক অভিযান মাত্র ৩২ দিনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশকে কার্যত হুমকিমুক্ত করে দিয়েছে। এটা আপনার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যতের জন্য সত্যিকারের বিনিয়োগ।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম