Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

যৌন কেলেঙ্কারি: বহিষ্কারের অপমানের মুখে পদত্যাগ মার্কিন কংগ্রেসের ২ সদস্যের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

যৌন কেলেঙ্কারি: বহিষ্কারের অপমানের মুখে পদত্যাগ মার্কিন কংগ্রেসের ২ সদস্যের

মার্কিন কংগ্রেস থেকে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই দলেরই দুই প্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন।

Advertisement

মার্কিন কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনার মুখে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দুই দলেরই দুই প্রতিনিধি পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন— এরিক সোয়ালওয়েল এবং টনি গঞ্জালেস। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তারা পদত্যাগ করেছেন। সে সময় প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা তাদেরকে দ্রুত অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছিলেন। তবে তার আগেই পদত্যাগ করার মাধ্যমে তারা দু’জনই প্রতিনিধি পরিষদের ফ্লোরে সম্ভাব্য বহিষ্কার ভোটের প্রকাশ্য অপমান থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান। তবে কংগ্রেস সদস্য হিসাবে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি এড়াতে পারলেও, তারা আলাদা আলাদা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের পতনের মধ্যেই তাদের দায়িত্ব ছাড়ছেন।  খবর সিএনএন-এর।

দুই পদত্যাগের ঘোষণা সোমবার রাতেই পরপর আসে, যা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এক বিস্ময়কর পরিস্থিতি তৈরি করে। উভয় দলের সদস্যদের জবাবদিহিতার চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তাদের পক্ষে পদে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সোয়ালওয়েল প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনকে লেখা পদত্যাগপত্রে বলেন, আমার অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমি আমার পরিবার, সহকর্মী ও ভোটারদের কাছে গভীরভাবে দুঃখিত। আমার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর ও মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি লড়ব। তবে আমার করা ভুলগুলোর দায় স্বীকার করছি। 

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কার ভোট আনার উদ্যোগ চলছে। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা যেমন ভুল, তেমনি তার নিজের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটানোও ঠিক নয়।

সোয়ালওয়েলের পদত্যাগ আসে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসার পর। অভিযোগে বলা হয়, এক সাবেক স্টাফার দাবি করেছেন যে, মদ্যপানের এক রাতে তার সম্মতি ছাড়াই সোয়ালওয়েল তার সঙ্গে যৌন স্থাপন সম্পর্ক করেন। এছাড়া আরও তিনজন নারী তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। এরই মধ্যে অবাঞ্ছিত নগ্ন ছবি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। যদিও সোয়ালওয়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

এই কেলেঙ্কারির জেরে তার বিরুদ্ধে নৈতিকতা তদন্ত শুরু হয় এবং সহকর্মীদের চাপ বাড়তে থাকে। এমনকি তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে প্রার্থিতা স্থগিত করলেও তার পদত্যাগের দাবি থামেনি। এছাড়া ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসও তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।   

অন্যদিকে, টনি গঞ্জালেসও নিজস্ব বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করেন। গত মাসে তিনি এক স্টাফারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ওই স্টাফার আত্মহত্যা করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরেক সাবেক কর্মীকে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। এই দুই পদত্যাগের ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দলের নেতারা জটিল বহিষ্কার ভোটের প্রক্রিয়া এড়াতে পেরেছেন। স্পিকার মাইক জনসন এবং হাউস সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ উভয়েই পৃথকভাবে বলেন, এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

পর্দার আড়ালে উভয় দল থেকেই পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি দল থেকে একজন করে সদস্য বহিষ্কারের প্রস্তাব আনা হবে। নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্রেট প্রতিনিধি তেরেসা লেজার ফার্নান্দেজ এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি আনা পাউলিনা লুনা এই প্রস্তাব তৈরির উদ্যোগ নেন। 

তারা সতর্ক করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। শেষ পর্যন্ত দুই সদস্যই পদত্যাগে সম্মত হওয়ায় সেই উদ্যোগ স্থগিত রাখা হয়। 

উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র ছয়জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিরল ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম