ফ্রান্সে বৈধ অভিবাসনে ৩ বছরের বিরতির প্রস্তাব, শঙ্কায় বাংলাদেশিসহ প্রবাসীরা
হাসান ইলিয়াস তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফ্রান্সে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ। তিনি বৈধ অভিবাসন সাময়িকভাবে তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাব ঘিরে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফরাসি সাপ্তাহিক জার্নাল দু দিমঁশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারমানাঁ বলেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা চাপের মুখে পড়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈধ অভিবাসনে সাময়িক বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তীতে ল্য প্যারিজিয়েন ও আরটিএল ফ্রান্সসহ একাধিক ফরাসি গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কাজের ভিসা এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো নিয়মিত অভিবাসন পথও প্রভাবিত হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরিবার নিয়ে ফ্রান্সে আসার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা ও আবাসন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি বেড়েছে। আবাসন নবায়ন, কাগজপত্র যাচাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এদিকে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা ও বহিষ্কার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বৈধ কাগজধারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্যারিসের লা শাপেলে বসবাসরত বাংলাদেশি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার স্ত্রীর পারিবারিক পুনর্মিলনের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন এ প্রস্তাবের খবরের পর পরিবারে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান।
সেন-দেনিতে বসবাসরত আবদুল কাদের বলেন, আগেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ধীরগতির ছিল, এখন নতুন সিদ্ধান্ত এলে অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
লিয়নে বসবাসরত নাজমুল ইসলাম বলেন, অনেক বাংলাদেশি পরিবার আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে সবাই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এ মুহূর্তে এটি কোনো আইন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব মাত্র। বাস্তবায়নের জন্য ফরাসি পার্লামেন্টে আলোচনা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এ বিষয়ে আলোচনা এগোলেও ২০২৬ সালের আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যু ফ্রান্সের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর না হলেও ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

