Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

স্মার্টফোনে অশ্লীল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনছে যুক্তরাজ্য

Advertisement

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

স্মার্টফোনে অশ্লীল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন আনছে যুক্তরাজ্য

শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন নগ্ন ও যৌনতাসম্পন্ন ছবি দেখা, পাঠানো বা সংরক্ষণ বন্ধ করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

Advertisement

শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিভাইসে নগ্ন ও যৌনতাসম্পন্ন ছবি দেখা, পাঠানো বা সংরক্ষণ বন্ধ করতে অ্যাপল, গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

লন্ডন টেক উইকে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বিদ্যমান নিরাপত্তা সুবিধা চালু করতে হবে অথবা অপারেটিং সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ১৮ বছরের কম বয়সিরা তাদের ডিভাইসে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি, আদান-প্রদান কিংবা দেখতে না পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিশুদের সুরক্ষায় তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিন মাসের আল্টিমেটাম

সরকার জানিয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে স্বেচ্ছায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি চরম ক্ষেত্রে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হতে পারে। নতুন ও পুরনো—উভয় ধরনের স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের ক্ষেত্রেই এসব বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে বয়স যাচাই করা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ওপর এসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া

গুগল জানিয়েছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শ কমাতে সুরক্ষিত সমাধান তৈরিতে যুক্তরাজ্যের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

অন্যদিকে অ্যাপল ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের জন্য বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করেছে। পাশাপাশি আইমেসেজসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও ব্লক করার সুবিধাও রয়েছে।  

অনলাইন ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে কার্যকর রয়েছে অনলাইন সেফটি এক্ট, যার আওতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষার আইনি দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তবে শিশু সুরক্ষা কর্মীরা বলছেন, অনলাইনে শিশুদের গ্রুমিং, সেক্সটরশন এবং অশ্লীল কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অনলাইন প্রতিবেদনের ৯১ শতাংশই ছিল শিশুদের নিজের তৈরি করা ছবি বা কনটেন্ট সংশ্লিষ্ট। এছাড়া গড়ে ১৩ বছর বয়সের মধ্যেই অধিকাংশ শিশু পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের মুখোমুখি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য আসতে পারে নতুন বিধিনিষেধ

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নৈতিক দায়িত্ব হলো শিশুদের নগ্ন ছবি তৈরি, শেয়ার বা দেখার সুযোগ বন্ধ করা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকার আইনগত পদক্ষেপ নেবে।

প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, সব শিশুর ডিভাইসে নিরাপত্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা ডিফল্টভাবে চালু থাকা উচিত।

শিশু অধিকার সংগঠন এনএসপিসি সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন বিগ ব্রাদার ওয়াচ সতর্ক করে বলেছে, এসব উদ্যোগ অনলাইনে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের মতো বিতর্কিত ব্যবস্থার জন্ম দিতে পারে এবং সমস্যার মূল কারণ সমাধান নাও করতে পারে।

এদিকে জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষে ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা ও আসক্তি তৈরি করে এমন ফিচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।

সূত্র- সামা

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম