ভারতে যাত্রীবোঝাই নৌকাডুবি, এক নারীর মৃত্যু
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বীড় জেলার মাজলগাঁও এলাকায় যাত্রীবোঝাই একটি নৌকাডুবির ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নদী পারাপারের সময় নৌকাটি উলটে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকাটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে কাত হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই স্রোতের টানে উলটে যায়। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। যাত্রা শুরুর আগে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মাঝিকে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নৌকাটি নদীতে নামানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নদীর মাঝামাঝি পৌঁছার পর নৌকাটি একদিকে হেলে পড়তে শুরু করে। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে নড়াচড়া শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রবল স্রোতের কারণে মাঝি নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে স্রোতের টানে নৌকাটি কয়েকবার ঘুরে উলটে যায়।
দুর্ঘটনার পর অনেক যাত্রী পানিতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে কয়েকজনকে নদীর স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। পরে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে নদীর বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজদের স্বজনরা নদীর তীরে ভিড় করে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী পারাপারের সময় নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয় না। যাত্রীসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
নৌকাডুবির প্রকৃত কারণ এবং কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
