Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

পুরুষদের টেস্টোস্টেরন ৫০ বছরে কমেছে ৫৪ শতাংশ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

পুরুষদের টেস্টোস্টেরন ৫০ বছরে কমেছে ৫৪ শতাংশ

শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, শুক্রাণুর সংখ্যাও কমছে। ছবি: সংগৃহীত

পুরুষের শারীরিক গঠন, প্রজননক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য টেস্টোস্টেরন হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে। গত পাঁচ দশকে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

৫০ বছরে টেস্টোস্টেরন কমেছে ৫৪ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসমাজ এখন পুরুষদের প্রজননক্ষমতার বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির (ESHRE) বার্ষিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে গবেষকরা জানান, গত পাঁচ দশকে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ টেস্টোস্টেরন হরমোন?

টেস্টোস্টেরন পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে প্রজননক্ষমতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কেন কমছে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা?

গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয়ও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে ব্যবহৃত এন্ডোক্রাইন-ব্যাহতকারী (Endocrine-disrupting) রাসায়নিক পদার্থ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকদের সতর্কবার্তা

ইসরাইলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন মনে করেন, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য একটি বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বিষয়টি যতটা উদ্বেগের, বাস্তবে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

হাগাই লেভিন বলেন, ‘৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যেতে আমরা দেখেছি। এর অর্থ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে টেস্টোস্টেরন কমেছে। এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, আবার পরিসংখ্যানগত ভুলও নয়।’

শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, শুক্রাণুর সংখ্যাও কমছে

পুরুষের প্রজননক্ষমতা সত্যিই কমছে কি না এবং এর পেছনের কারণ কী— তা নিয়ে এখনো বিজ্ঞানী মহলে আলোচনা চলছে। তবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার এই গবেষণা বিষয়টিকে নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এনেছে।

উল্লেখ্য, একই গবেষক দল এর আগে পুরুষদের শুক্রাণু নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখিয়েছিল, গত ৪০ বছরে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সেই গবেষণাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিজ্ঞানী মহলে চলছে বিতর্ক

যদিও এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবুও অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চান্না জয়সেনা বলেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন নিয়ে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে বাস্তবতার নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়কাল ধরে এসব গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এ বিষয়টিই আমাকে গবেষণার ফলাফলের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও বাড়ছে।’

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার এই গবেষণা পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে এবং কারণগুলো নিয়ে এখনো বৈজ্ঞানিক আলোচনা চলছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম