Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

আন্দোলনকারীদের ‘আবর্জনা’ বলে কটাক্ষ কঙ্গনার, পালটা জবাব অভিজিতের

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

আন্দোলনকারীদের ‘আবর্জনা’ বলে কটাক্ষ কঙ্গনার, পালটা জবাব অভিজিতের

Advertisement

দিল্লির যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল অসংখ্য মানুষ। সেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে তীর্যক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেত্রী ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। তিনি আন্দোলনকারীদের ‘আবর্জনার প্রজন্ম, কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেন। যা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

জেন–জেড বা জেন–জি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঙ্গনা রানাউতের একের পর এক বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এসব কটাক্ষকে পাত্তা দিচ্ছেন না আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। কঙ্গনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?’

বুধবার (২৯ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি তরুণ প্রজন্ম তথা জেন জেড-কে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। তার আগের মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর এবার একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং একটি অংশের সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে।

ভিডিওতে কঙ্গনা বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় কিছু বিক্ষোভকারীর আচরণ ছিল অত্যন্ত অশালীন ও অনৈতিক। তার মতে, প্রকাশ্য রাস্তায় শিশু, প্রবীণ এবং মহিলাদের সামনে অশ্লীল ভাষা বা অশোভন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ধরনের আচরণকে সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয় এবং তিনি তা সমর্থন করবেন না।

অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে কঙ্গনার মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?

কঙ্গনার কথায়, সমাজে বসবাস করতে হলে প্রত্যেকেরই সংবিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার একটি সীমারেখা রয়েছে। জনসমক্ষে কাউকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না বলেই তার দাবি।

অভিনেত্রী আরও বলেন, তিনি কখনও পুরো জেন জেড প্রজন্মকে আক্রমণ করেননি। বরং দেশের বহু তরুণ-তরুণীর সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর মতো স্টার্টআপ এবং কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া তরুণদের তিনি কুর্নিশ জানান। তাঁর মতে, দেশের অসংখ্য তরুণ আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করছেন এবং তাঁদের নিয়েই তিনি গর্বিত।

ভিডিওর একাংশে কঙ্গনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে আন্দোলনের সময় ওঠা বিতর্কিত স্লোগান নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি, অনেকেই প্রধানমন্ত্রীকে নেতা, অভিভাবক কিংবা অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। তাই এমন মন্তব্য মানুষের আবেগে আঘাত করতে পারে। জনজীবনে মতবিরোধ থাকলেও ভদ্রতা ও সংযম বজায় রাখা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, এই বিতর্কে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে গায়ক-সুরকার বিশাল দাদলানির বক্তব্যে। যদিও তিনি কঙ্গনার নাম নেননি, তবুও সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে এত আলোচনা হলেও তাদের ওপর নিরাপত্তারক্ষীদের বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে কেন একইভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। তার বক্তব্য, শুধু স্লোগানের ভাষা নয়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার সামগ্রিক চিত্রও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম