Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

কিউবায় আবারও ধসে পড়ল জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড, গভীর হচ্ছে জ্বালানি সংকট

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ এএম

কিউবায় আবারও ধসে পড়ল জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড, গভীর হচ্ছে জ্বালানি সংকট

দেশটিতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবাকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কিউবায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাটিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলাকালেই আবারও ধসে পড়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড। 

সোমবার ( ৩ আগস্ট) দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঘটনায় দেশটির চলমান জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রোববার রাতের দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ করছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই সোমবার বিকালে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (এসইএন) আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সাংবাদিক লাজারো ম্যানুয়েল আলোনসো জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কিছু অগ্রগতি হলেও হঠাৎ একটি বিদ্যুৎ ওঠানামার কারণে পুরো গ্রিড আবারও ভেঙে পড়ে।

পরে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউএনই এক বিবৃতিতে জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের সময় বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সঞ্চালন নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে যেসব বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছিল, সেগুলোও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গ্রিড আবার অচল হয়ে পড়ে।

তবে সোমবার সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এনারগাস জারুকো বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারটি উৎপাদন ইউনিট চালু হয়েছে এবং রাজধানী হাভানার আশপাশের কয়েকটি সাবস্টেশনে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা গেছে।

গত জুলাই মাসে মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড তিনবার ধসে পড়ে। এর পর রোববার রাতে আবারও দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। সর্বশেষ সোমবারের এই বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রায় এক কোটি মানুষের দেশ কিউবায় বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবাকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকা সরকারের ওপর চাপও বাড়ছে।

বিদ্যুৎ সংকটকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে। কিউবার দাবি, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি, অর্থায়ন এবং যন্ত্রাংশ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে বড় প্রতিবন্ধক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কিউবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতাই এ সংকটের মূল কারণ।

কিউবার অধিকাংশ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কয়েক দশক পুরোনো। জ্বালানির ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে এসব কেন্দ্র বারবার বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সরবরাহ স্বাভাবিক করাও দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম