সৌদি জাহাজে হামলা তেলের বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩২ এএম
লোহিত সাগরে শঙ্কা বাড়াচ্ছে হুথি সেনারা। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেলবাহী দুইটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথিরা। গত মাসে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও দিয়েছে তারা। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি তেল পরিবহন ব্যবস্থা। তবে এ ঘটনার বিষয়ে সৌদি বা কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি লোহিত সাগরে এ ধরনের হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজগুলোকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হবে, যা স্বাভাবিক রুটের তুলনায় কয়েক সপ্তাহ বেশি সময় নেবে। এতে পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ভাড়া, বীমা খরচ এবং জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি এ সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মাত্র ২৯ কিলোমিটার (১৮ মাইল) চওড়া এই প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের প্রায় ৬৬ শতাংশ তেল রপ্তানি এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়তে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, পরিবহন খরচ এবং বিভিন্ন দেশের আমদানি ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোহিত সাগরে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। নতুন করে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো নিবিড় নজর রাখছে।
