জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে এ ধরনের একটি পদক্ষেপ দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে টিকেনি। এবার তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার একটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আওতা সংকুচিত করার এবং অন্যটি তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা ঠেকানোর লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। বিশেষ করে, যদি শিশুর বাবা-মা দুজনই অ-নাগরিক হন এবং তাদের একজন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা, প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের চেষ্টা করেছেন অথবা এমন কোনো মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি নেই, তাহলে ওই শিশু জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধা পাবে না।
হোয়াইট হাউসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, এই পরিবর্তন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল এবং তার প্রশাসন এখন সেটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সমালোচনাও করেন।
দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে।
হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি–বিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, এই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুরা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত বিভিন্ন অধিকার ও সুবিধা ভোগ করতে পারে। তার মতে, বিদ্যমান অভিবাসন আইনের অধীনেই প্রেসিডেন্টের এমন ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। তবে নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইমিগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর এভাবে প্রায় ২২ থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়। এছাড়া সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাসম্পন্ন মায়েদের কাছ থেকে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ৬০০।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। তবে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে যায় এবং আদালত রায় দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল থাকবে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস আইনবিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিনের মতে, বিদেশিদের সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার কিছু ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার পর কোনো শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই বলেই তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, বার্থ ট্যুরিজম যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হওয়া মোট জন্মের তুলনায় খুবই সামান্য একটি ঘটনা।

-6a7574b87e8f8.jpg)