ইটের বদলে ইতালিকে পাটকেল মারল স্পেন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০ পিএম
ইতালি সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পর, এবার ইতালি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপরও সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্পেন ও ইতালির মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক রেষারেষির সৃষ্টি হয়েছে। মরক্কো সীমান্ত সংলগ্ন স্পেনের ভূখণ্ড সিউটায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভূতপূর্ব শরণার্থী অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোভুক্ত এই দুই মিত্র দেশের সম্পর্কে এ টানাপোড়েন শুরু হয়।
এর জেরে ইতালি সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করার পর, এবার ইতালি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপরও সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালুর ঘোষণা দিল স্পেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতালির দিকে অব্যাহত ‘অনিয়মিত অভিবাসনের চাপের’ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেনের এই নতুন সীমান্ত কড়াকড়ি বলবৎ থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ ও ৩১ জুলাই। ওই দুই দিনে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সাঁতরে এবং হেঁটে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে অন্তত ৮০ জন মারা যান (যদিও অধিকার সংস্থাগুলোর মতে এই সংখ্যা ১৪১ জনেরও বেশি)।
এই ঘটনার পরপরই গত ৩১ জুলাই ইতালির অতি-ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার নিরাপত্তার অজুহাতে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন’ ভিসা-মুক্ত যাতায়াত চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করে। একই সঙ্গে স্পেন থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে আসা তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইতালি।
স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে ইতালির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এটিকে ‘ইউরোপীয় ঐক্যের ওপর আঘাত’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং ইতালিকে রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সময়সীমা বেধে দেন।
তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্পেনের এই আলটিমেটাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয়, ১৫ আগস্টের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইতালি কোনো বিদেশি চাপ মেনে নেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। ইতালির এই অনমনীয় অবস্থানের পরেই স্পেন পাল্টা সীমান্ত কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
সিউটার বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি
স্পেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, সিউটায় প্রবেশ করা ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার মানুষকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সেখানে অবস্থান করা শত শত অভিভাবকহীন শিশুসহ অবশিষ্ট মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। তারা পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল ও বাসস্থানের তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

