Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

বন্দিদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধের ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

বন্দিদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধের ব্যবহার করবে যুক্তরাজ্য

প্রতীকী ছবি

Advertisement

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বন্দিদের অনিয়ন্ত্রিত যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অনিয়ন্ত্রিত যৌন কামনার চিকিৎসা বলা হয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বন্দির মাথায় সবসময় বিকৃত যৌন চিন্তা ঘোরপাক খায়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সমস্যা দমনে যুক্তরাজ্যে মূলত দুই ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিষণ্নতার ওষুধ, যা অতিরিক্ত কামনার তাড়না কমায় এবং হরমোন কমানোর ওষুধ, যা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। 

বিশিষ্ট ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বেলিন্ডা উইন্ডারের মতে, এই চিকিৎসায় অনেক অপরাধী আবার স্বাভাবিক মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা ফিরে পায়। তবে রাগ, ক্ষোভ বা মাদকের প্রভাবে অপরাধ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয় না। 

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধরণ দেখা যায়। ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে বন্দিরা কেবল নিজেদের ইচ্ছায় স্বেচ্ছায় এই চিকিৎসা নিতে পারে। জার্মানিতেও গোপন চিকিৎসার মাধ্যমে বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন পুরুষদের সহায়তা দেওয়া হয়। 

অন্যদিকে পোল্যান্ড, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার মতো স্থানে কিছু অপরাধীর জন্য আইন করে বাধ্যতামূলকভাবে রাসায়নিক চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও অপরাধীদের জামিনে মুক্তির শর্ত হিসেবে এমন থেরাপি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের হাতে রয়েছে। 

যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো প্যারেলে মুক্তির শর্ত হিসেবে এই ওষুধ সেবনের নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই পদ্ধতিটি নতুন নয় এবং এর ইতিহাস বেশ জটিল। 

১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে সমকামী পুরুষদের জেল খাটা থেকে রেহাই পাওয়ার বিনিময়ে এই থেরাপি নিতে বাধ্য করা হতো, যার শিকার হয়েছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং। তিনি এ পদ্ধতির শিকার হয়ে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছিলেন। 

তাছাড়া, হরমোন কমানোর এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশ মারাত্মক। এর ফলে শরীরে চরম ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, পেশি হ্রাস পাওয়া এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হয়। 

চিকিৎসকরা মনে করেন, এই ওষুধ কেবল শারীরিক চাহিদা কমায়, কিন্তু অপরাধ করার মানসিকতা পুরোপুরি বদলে দেয় না। সে কারণে শুধু ওষুধ খাওয়ার শর্তেই কাউকে জামিন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও নৈতিক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মোদির পতন কবে, জানালেন দীপকে

মোদির পতন কবে, জানালেন দীপকে

বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলাম: সোনিয়া গান্ধী

বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলাম: সোনিয়া গান্ধী

কে এই আইজেনকোট, তার ফিলিস্তিন নীতি কী?

কে এই আইজেনকোট, তার ফিলিস্তিন নীতি কী?

পাকিস্তান ভেঙে ১২ প্রদেশ হচ্ছে?

পাকিস্তান ভেঙে ১২ প্রদেশ হচ্ছে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম