দীর্ঘ ৪ বছর পর গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলল ভারত, লাভবান হবে কারা?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রেকর্ড উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুত ও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ চার বছর পর গম এবং গমজাত পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গমের রপ্তানি নীতি ‘নিষিদ্ধ’ অবস্থা থেকে সংশোধন করে ‘মুক্ত’ ঘোষণা করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সিদ্ধান্তের মূল ক্ষেত্র ও প্রেক্ষাপট
এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে গম ছাড়াও আটা, ময়দা, সুজি ও গোটা গমের আটার মতো সব ধরনের গমজাত পণ্য অবাধে রপ্তানির নতুন পথ উন্মুক্ত হলো। ২০২২ সালের মে মাসে নিজস্ব খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গম বিক্রিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত। নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে কার্যকর থাকা লাইসেন্স ও কোটা-ভিত্তিক রপ্তানি ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো।
রপ্তানি নীতি উন্মুক্ত করার প্রধান কারণসমূহ
ভারতের খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়ার মতে, মূলত দেশীয় কৃষকদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পদক্ষপে নেওয়া হয়েছে। বাজারে গমের দরপতনের কারণে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। রপ্তানি শুরু হলে স্থানীয় বাজারে দাম যৌক্তিক পর্যায়ে ফিরবে এবং আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষকরা নতুন উদ্যামে আবাদে উৎসাহিত হবেন।
বর্তমানে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্বিক চিত্র
বর্তমান মজুত: ভারতের ফুড করপোরেশনের (এফসিআই) কাছে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টন গম জমা রয়েছে।
রেকর্ড উৎপাদন: ২০২৫–২৬ মৌসুমে দেশটিতে রেকর্ড ১২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক গম সরবরাহ যখন দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মিসর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প খাদ্য সরবরাহের সন্ধান করছে, ঠিক এমন সময়ে ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের জন্য বড় সুসংবাদ ও সম্ভাব্য সুবিধা
ভারতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ।
কম খরচ ও ভৌগোলিক সুবিধা: ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত থেকে দ্রুততম সময়ে এবং ন্যূনতম পরিবহন খরচে গম বাংলাদেশে আনা সম্ভব।
বাজার দর নিয়ন্ত্রণ: ভারতের সুগম সরবরাহের ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে আটা, ময়দা ও গমজাত পণ্যের দাম সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, যার সুফল পাবেন সাধারণ ভোক্তারা।
জরুরি ঘাটতি পূরণ: সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতে হঠাৎ গমের ঘাটতি দেখা দিলে ভারত থেকে আগের চেয়ে অনেক দ্রুততম সময়ে তা আমদানি করে সমাধান করা যাবে।
